মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

Translator
Translate & English
সংবাদ শিরোনাম
স্মরনে নবাবসিরাজউদ্দৌলা। হলো না সব বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবাবি ব্যাপার স্যাপার। প্রধানমন্ত্রী:-সংসদে সত্যিকারের শক্তিশালী বিরোধী দল চেয়েছিলাম ৭ নম্বর বিপদ সংকেত মোংলা পায়রা বন্দরসহ ৯ জেলায় । নগরীতে আমিনুল হকের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল শ্রমেরমর্যাদা, ন্যায্যমজুরি, ট্রেডইউনিয়নঅধিকারওজীবনেরনিরাপত্তারআন্দোলনশক্তিশালীকরারদাবিনিয়েআশুলিয়ায়মেদিবসপালন । সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয়  প্রভাবশালী  মাদকব্যবসায়ী । জেলা খুলনার দাকোপে ব্রোথেলের নারীজাগরনী সংঘের সভানেত্রী রাজিয়া বেগম হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষলক্ষ টাকা। ঘু‌র্ণিঝড় ফ‌নি আঘাত আনতে পা‌রে ৪ মে, য‌দি বাংলা‌দে‌শে আঘাত হা‌নে ত‌বে্রে আক‌টি সিডর হ‌তে পা‌রে বাংলা‌দে‌শে।  গাজীপুরে ফ্রেন্ডস ট্যুরিজম আয়োজন করলো সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার ।
শিল্পের সংকট দূর হবে কবে

শিল্পের সংকট দূর হবে কবে

দেশে চিনি শিল্প নিয়ে সংকট দীর্ঘদিনের। এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ আজও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এ শিল্পে একদিকে চাষিদের আখ বিক্রির টাকা বকেয়া পড়ে থাকে দিনের পর দিন, অন্যদিকে চিনির মজুদ পড়ে থাকে মিলগুলোর গোডাউনে, সেই সঙ্গে বকেয়া থাকে কর্মীদের বেতন- এ যেন দীর্ঘকালের চেনা চিত্র। এ সংকটের কারণে চাষিরা যেমন অর্থকষ্টে ভোগেন তেমনই চিনিকলের কর্মীরাও বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। এ শিল্পের সংকট দূর হবে কবে- সেই প্রশ্নেই ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

সময়েরকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, ‘আখ চাষিদের পাওনা রয়েছে সাড়ে ১১ কোটি টাকা, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বাকি ৬ কোটি টাকা।’ সংবাদটি খুবই উদ্বেগের। একটা কৃষিমুখী শিল্পের কাঁচামাল উত্পাদনকারীদের সরবরাহ করা পণ্যের দামই যদি মিল কর্তৃপক্ষের কাছে দিনের পর দিন আটকে থাকে, তাহলে এর প্রভাব তৃণমূলের ওই চাষিদের মাঝে পড়বেই। তা ছাড়া যে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে কৃষকরা কাঁচামাল উত্পাদন করেন, সে পণ্যের দামই যদি আটকে যায়, তাহলে তারা জীবনযাপনের খরচ চালাবেন কোথা থেকে আর পরবর্তী মৌসুমের চাষাবাদের জন্য প্রস্তুতি নেবেনই বা কীভাবে

সংবাদ ভাষ্য মতে, সরবরাহ করা আখের মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে আখ চাষ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন চাষিরা। এসব কারণে বর্তমানে চিনিকলের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে। এর নেপথ্যের আরেক কারণ হচ্ছে চিনি বিক্রি না হওয়া। কেবল রংপুর চিনিকলের গুদামে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন চিনি। আর বিএসএফআইসির অন্য চিনি কলগুলোর গুদামে মজুদ আছে ৩৫০ কোটি টাকা মূল্যের ৭০ হাজার মেট্রিক টন চিনি। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে মজুদ আছে সংস্থার আমদানি করা ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ মেট্রিক টন চিনি। সেই চিনি আবার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজিতে ৫ টাকা কমে ৪৫০ কোটি টাকায় বিক্রি করে রংপুর চিনিকলসহ সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন চাষিদের বকেয়া বাবদ সরবরাহ করা হয়েছে।

দেশের চিনিকলগুলোর গুদামে অবিক্রীত চিনি থাকার পরও আমদানির কথা শোনা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে দেশে উত্পাদিত চিনিই অবিক্রীত থাকে সেখানে আমদানি করার প্রশ্নটি আসে কেন তা বোধগম্য নয়। তাহলে কি আমদানি করা চিনি সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে লাভজনক? তাই যদি হয়, তাহলে আমাদের দেশের চিনির উত্পাদন খরচ কি বেশি? নাকি চাহিদার তুলনায় উত্পাদন কম? উত্পাদন যদি কমই হবে তাহলে মিলগুলোর গুদামে চিনির এত মজুদ কেন?
আমাদের দেশের চিনিকলগুলোর ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ অনেক পুরনো।

বিশেষ করে রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ ক্রয় ও মৌসুমি শ্রমিক নিয়োগে অনেক দুর্নীতি হয়- এমন অভিযোগ বরাবরই শোনা যায়। তাই যদি হয়, তাহলে একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে একটা শিল্প বছরের পর বছর অলাভজনক পথে চলতে থাকবে আর এর যাবতীয় দায় সরকার বহন করেই যাবে- এটা হতে পারে না। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।

খাদ্য তালিকায় চিনি প্রয়োজনীয় উপাদান। নিত্যপণ্যগুলোর মধ্যে দৈনন্দিন তালিকায় চলে আসে চিনির নাম। এই পণ্যটির উত্পাদনে দিনের পর দিন অনিয়ম চলতে পারে না। যেহেতু সরকারি সংস্থার অধীনে এই পণ্যের উত্পাদন প্রক্রিয়া সেহেতু অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করা সরকারেরই দায়িত্ব। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহায়তার মাধ্যমে এ খাতের যাবতীয় অনিয়ম দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। যাবতীয় অনিয়ম দূর করতে সরকার এ বৃহৎ শিল্প খাতটির দিকে সুনজর দেবে-এ প্রত্যাশা সবার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Translate & English
Design & Developed BY ThemesBazar.Com