বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

Translator
Translate & English
সংবাদ শিরোনাম
স্মরনে নবাবসিরাজউদ্দৌলা। হলো না সব বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবাবি ব্যাপার স্যাপার। প্রধানমন্ত্রী:-সংসদে সত্যিকারের শক্তিশালী বিরোধী দল চেয়েছিলাম ৭ নম্বর বিপদ সংকেত মোংলা পায়রা বন্দরসহ ৯ জেলায় । নগরীতে আমিনুল হকের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল শ্রমেরমর্যাদা, ন্যায্যমজুরি, ট্রেডইউনিয়নঅধিকারওজীবনেরনিরাপত্তারআন্দোলনশক্তিশালীকরারদাবিনিয়েআশুলিয়ায়মেদিবসপালন । সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয়  প্রভাবশালী  মাদকব্যবসায়ী । জেলা খুলনার দাকোপে ব্রোথেলের নারীজাগরনী সংঘের সভানেত্রী রাজিয়া বেগম হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষলক্ষ টাকা। ঘু‌র্ণিঝড় ফ‌নি আঘাত আনতে পা‌রে ৪ মে, য‌দি বাংলা‌দে‌শে আঘাত হা‌নে ত‌বে্রে আক‌টি সিডর হ‌তে পা‌রে বাংলা‌দে‌শে।  গাজীপুরে ফ্রেন্ডস ট্যুরিজম আয়োজন করলো সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার ।
জয়ে আবাহনীর বড় স্বপ্নের শুরু

জয়ে আবাহনীর বড় স্বপ্নের শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অতীতের সব ব্যর্থতা ভুলিয়ে কাঠমাণ্ডু আশীর্বাদ নিয়ে হাজির হয়েছে আবাহনীর সামনে। এএফসির টুর্নামেন্টে যারা বরাবরই অপয়া সেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা গতকাল প্রথম ম্যাচ জিতে শুরু করেছে এএফসি কাপ। নেপালের মাটিতেই মানাং মার্সিয়াংদিকে ১-০ গোলে হারিয়ে যেন নতুন দুয়ার খুলেছে আকাশি-নীলের দল। আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লামোসও বেজায় খুশি, ‘এটা খুব দরকার ছিল ক্লাবের জন্য। আগের সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার প্রথম ম্যাচ জিতে আবাহনী শুরু করেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডের দুয়ার ভালোভাবে খুলে রেখেছে। দলের চেহারা বদলে দেওয়ার মতো এক ম্যাচ।’ ‘ই’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচ জয়ের সুবাদে আবাহনীই এখন শীর্ষে।

নেপালের আনফা কমপ্লেক্স মাঠে ম্যাচ শুরু হয় নেপালি চাম্পিয়ন দলের আধিপত্যে। টার্ফের মাঠে তাদের পাসিং ফুটবলে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে আবাহনী রক্ষণ। ছোটখাটো ভুলের কারণে সুযোগ তৈরি হলেও ঠিক ফায়দা লুটতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৮ মিনিটে সুজল শ্রেষ্ঠার শটটি সোজা চলে যায় গোলরক্ষক শহীদুলের হাতে। ২৩ মিনিটে মানাংয়ের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আফিজ ওলাওয়ালে ডিফেন্ডার রায়হানকে পরাস্ত করেও আবাহনীর জালে ঠেলতে পারেননি বল। আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপুও স্বীকার করেন স্বাগতিকদের শুরুর চাপের কথা, ‘প্রথম ২০-২৫ মিনিট মাঠে আধিপত্য ছিল তাদের, চাপে রেখেছিল আবাহনীকে। এরপর খেলাটা গুছিয়ে নিয়েছে আমাদের খেলোয়াড়রা। নিজেদের মাঠে প্রতিপক্ষ অভ্যস্ত, তবে আমরা প্রথম সুযোগেই লিড নিয়েছি। এরপর তাদের পজেশন বেশি থাকলেও আমাদের রক্ষণভাগকে বিপদে ফেলতে পারেনি। সোহেল (শহীদুল) অবশ্য দু-দুটি ভালো সেভ করেছে।’ আসলে ২৭ মিনিটের ওই গোলেই বদলে যায় খেলার ধারা। ওটাই ছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের প্রথম সুযোগ। ওয়ালি ফয়সালের বাড়ানো বলে রুবেলের ক্রস খুঁজে নেয় মাসি সাইগানিকে, এই আফগান ডিফেন্ডারের নিশানাভেদী হেডে নেপালি গোলরক্ষকের করার কিছুই ছিল না। এই গোল ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে আকাশি-নীলে। চাপ নিঃসরণ শেষে তারা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাকিটা সময় দারুণ লড়ে গেছে।

তাদের বাকি সময়ে তারা খেলেছে লিড ধরে রেখে কাউন্টার ফুটবল। আবাহনী কোচ তাঁর খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ দিচ্ছেন কৌশল মেনে ম্যাচ শেষ করতে পারার জন্য, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল, গোল খাব না। রক্ষণভাগ এই কাজটা খুব ভালো করেছে, তাই গোলের পর ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি আমরা। কৌশল অনুযায়ী সবাই মাঠে পারফরম করেছে। কৃত্রিম মাঠে অভ্যস্ত মানাং, তারা দৌড়ঝাঁপ করে খেলেছে। তারা শক্তিশালী দল, গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল। তবে আমরা আরো কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম। যেমন সানডের হেড পোস্টে লেগে ফিরেছে, বেলফোর্টেরও একটি ভালো সুযোগ ছিল। যা-ই হোক, এক মাস ম্যাচহীন থাকার পর প্রথম ম্যাচে সবাই একটা মান বজায় রেখে খেলেছে, ম্যাচ জিতেছে।’ ৩৬ মিনিটে অবশ্য অঞ্জন বিষ্ঠা চমৎকার সুযোগ পেয়েও খেলায় ফেরাতে পারেননি দলকে। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে আগে সানডে সহজ সুযোগটি মিস না করলে ম্যাচ তখনই আবাহনীর পকেটে ঢুকে যায়। এই নাইজেরিয়ানেরও দুর্ভাগ্য, ৮২ মিনিটে তাঁর দুর্দান্ত শটটি পোস্টে লেগে না ফিরলে এক গোলের টেনশন নিয়ে থাকতে হয় না শেষ পর্যন্ত। রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত সফল সেই লিড ধরে রেখেছে। এক নম্বর ডিফেন্ডার তপুকে ছাড়াই তারা সফল।

এই জয়ে মারিও লামোস সন্তুষ্ট হলেও দলের পারফরম্যান্সের আরো উন্নতি আশা করেন, ‘প্রথম ম্যাচে ছেলেদের পারফরম্যান্স এবং ৩ পয়েন্টে আমি খুশি। পারফরম্যান্স হয়তো আরো ভালো হতে পারত, তবে কৃত্রিম মাঠে মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল। এর পরও খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে এবং গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে কৌশল মেনে খেলতে পেরেছে, এটাই বড় সন্তুষ্টির। সামনের ম্যাচগুলোতে তাদের খেলা আরো ভালো হবে, এটা নিশ্চিত।’ এএফসি কাপের গত দুই আসরে দুটি ম্যাচ জিতলেও কোনোবারই প্রথম ম্যাচ জেতা হয়নি। এবার শুরুর জয়ে অনুপ্রাণিত হবে পুরো দল। তাই আবাহনী কোচও নতুন কিছু প্রত্যাশা করছেন, ‘প্রথম ম্যাচ জিতেছি বলে পরের রাউন্ডে উঠে গেছি, তা নয়। তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে এটার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরের ম্যাচ মিনারভা পাঞ্জাবের সঙ্গে। প্রতিপক্ষ হিসাবে হয়তো তারা আরো শক্তিশালী তবে সামনের ম্যাচে আবাহনীর খেলা আরো ভালো হবে। ছেলেদের বলেছি, এই জয় শুধু প্রথম পদক্ষেপ। লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আমাদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক উন্নতি বজায় রাখতে হবে।’ কাঠমাণ্ডু জয় যেন বড় স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছে আবাহনীতে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Translate & English
Design & Developed BY ThemesBazar.Com