রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

Translator
Translate & English
সংবাদ শিরোনাম
আদালতের নির্দেশনা হাতিরঝিলের ভবন ভাঙবে কখন জানে না বিজিএমইএ ।

আদালতের নির্দেশনা হাতিরঝিলের ভবন ভাঙবে কখন জানে না বিজিএমইএ ।

তৈরি পোশাক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর উত্তরার নতুন ভবন গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে হাতিরঝিলের ভবনটি ভাঙা হবে কি না জানে না বিজিএমইএ। সংগঠনের নেতার বলছেন, বর্তমান ভবন ছেড়ে দেওয়ার পর এটা হবে আদালত এবং সরকারের সম্পত্তি। তাই আদালতই ঠিক করবেন এই ভবনের ভাগ্য কী হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে দুই টাওয়ারসমৃদ্ধ ১৩ তলা বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন শেষে সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। এ সময় নেতারা ভবন ভাঙার ব্যাপারে সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে সাংবাদিকদের অনেকটা এড়িয়ে গেছেন। তবে কেউ কেউ জবাব দিয়েছেন কৌশলে। তাঁরা জানিয়েছেন, বিজিএমইএ ছাড়ার পর এর সব দায়িত্ব হবে আদালতের।

খাতসংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বিজিএমইএকে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে হাতিরঝিলের ভবন ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের অর্থায়নে ভবনটি ভেঙে দিতে হবে। এ ছাড়া বিজিএমইএ যদি নিজেরা না ভাঙে; তাহলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনটি ভাঙবে এবং অর্থায়ন করবে বিজিএমইএ।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বিজিএমইএ তার সব কার্যক্রম বর্তমান ভবন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে উত্তরা থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আদালতের নির্দেশনা অনুসারে হাতিরঝিলের এই ভবন কবে ভাঙা হবে জানতে চাইলে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এটা আদালতের ব্যাপার; আদালত সিদ্ধান্ত নেবে বিজিএমইএ সরে গেলে কী করবে। তবে আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা আদালতের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই বিজিএমইএর হাতিরঝিল ভবন ছাড়ছি।’

বিজিএমইএ ভবন নিয়ে আদালতে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এই ভবন ভেঙে ফেলতে হবে। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ এই ভবন নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ রয়েছে আদালতের। আর যদি তারা নিজ দায়িত্বে না ভাঙে, তাহলে রাজউককে এই ভবন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া আছে। এই ভবন ভাঙতে রাজউকের কার্যক্রমের সব খরচ বহন করতে হবে বিজিএমইএকে। এ ব্যাপারে রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিজিএমইএ ভবন নিজেদের অর্থায়নে ভাঙার নির্দেশ রয়েছে। তারা ব্যর্থ হলে রাজউক ভাঙবে। তবে ভাঙার খরচ বিজিএমইএ বহন করবে।’

বিজিএমইএর কার্যালয় স্থানান্তর করা হলে ভবন ভেঙে ফেলা হবে কি না জানতে চাইলে বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির জানান, বিজিএমইএ ভবন ছেড়ে দেওয়ার পর এটি সরকারের সম্পত্তি হবে। তখন সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে কী করা হবে।

এদিকে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাতিরঝিলের নান্দনিকতা বাড়াতে এখানে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর করা যেতে পারে। যেখানে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে লেজার শোর মাধ্যমে বিনোদনের আয়োজন করা হতে পারে।

পাঁচ বছরে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দাবি : তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা চাইলেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, পোশাকের দাম কমে যাওয়া এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ফলে এই খাতের উদ্যোক্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। গতকাল বিজিএমইএ নতুন ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে; অন্যদিকে পণ্যের দর কমছে। তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে ১২০০ কারখানা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরো অনেক বন্ধ হওয়ার পথে। তাই এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা এবং রপ্তানি মূল্যের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Translate & English
Design & Developed BY ThemesBazar.Com