মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

Translator
Translate & English
সংবাদ শিরোনাম
স্মরনে নবাবসিরাজউদ্দৌলা। হলো না সব বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবাবি ব্যাপার স্যাপার। প্রধানমন্ত্রী:-সংসদে সত্যিকারের শক্তিশালী বিরোধী দল চেয়েছিলাম ৭ নম্বর বিপদ সংকেত মোংলা পায়রা বন্দরসহ ৯ জেলায় । নগরীতে আমিনুল হকের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল শ্রমেরমর্যাদা, ন্যায্যমজুরি, ট্রেডইউনিয়নঅধিকারওজীবনেরনিরাপত্তারআন্দোলনশক্তিশালীকরারদাবিনিয়েআশুলিয়ায়মেদিবসপালন । সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয়  প্রভাবশালী  মাদকব্যবসায়ী । জেলা খুলনার দাকোপে ব্রোথেলের নারীজাগরনী সংঘের সভানেত্রী রাজিয়া বেগম হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষলক্ষ টাকা। ঘু‌র্ণিঝড় ফ‌নি আঘাত আনতে পা‌রে ৪ মে, য‌দি বাংলা‌দে‌শে আঘাত হা‌নে ত‌বে্রে আক‌টি সিডর হ‌তে পা‌রে বাংলা‌দে‌শে।  গাজীপুরে ফ্রেন্ডস ট্যুরিজম আয়োজন করলো সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার ।
জর্জরিত ভৈরবের শিমুলকান্দি বিদ্যুৎ অফিস অনিয়ম আর দুর্নীতিতে

জর্জরিত ভৈরবের শিমুলকান্দি বিদ্যুৎ অফিস অনিয়ম আর দুর্নীতিতে

অবৈধ অর্থ বাণিজ্য, নানা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শিমুলকান্দি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। প্রধান কর্মকর্তা সহকারি প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন খানের নেতৃত্বে অফিসের অন্যান্য কর্মচারিরাও এখন বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির জালে  জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।

তাদের এসব কর্মকাণ্ডে বিপাকে পড়েছেন ওই বিদ্যুৎ অফিসের আওতাভুক্ত উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় আট হাজার আবাসিক বিদ্যুৎ গ্রাহকসহ আরো দুই শতাধিক সেচ পাম্প ব্যবহারকারী গ্রাহক।
তবে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগে একাধিকবার বদলি হয়েও কোনো এক অদৃশ্য কারণে বার বার একই অফিসে ফিরে এসে বিগত এক যুগ ধরে এসব অনিয়মের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন অফিসটির কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন খান।
সমস্যার মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গণহারে স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েও মেলেনি কোনো প্রতিকার। প্রতিকার না পেয়ে  মফিজ উদ্দিন খানের অপসারণের দাবিতে সম্প্রতি শ্রী-নগর ইউনিয়নের বধূনগর গ্রামের শতাধিক গ্রাহক বধূনগর- জাফর নগর সড়কে ঘন্টাব্যাপী ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগেও ওই ইউনিয়নের তেয়ারীরচর বাজারে মফিজ উদ্দিন খানের অপসারণের দাবিতে কয়েকশ গ্রাহক বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন । মফিজ উদ্দিন খানের দুনীর্তি ও অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রচার হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে  ভৈরব বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ময়মনসিংহের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. শাকিব হোসেন ও  কিশোরগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সুমন। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে এসে তদন্ত করার পর দুই সপ্তাহ পার হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয় গ্রাহকরা ফুসেঁ উঠেছে ।
সরজমিনে গেলে স্থানীয় গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মফিজ উদ্দিন খান শিমুল কান্দি বিদ্যুৎ অফিসে যোগদানের পর এলাকায় একটি দালালচক্র গড়ে তোলেন । ওই দালালচক্রের মাধ্যমে তার আওতাধীন এলাকায় ফ্যাক্টরী বা কোনো মিল কারখানায় নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ নিতে চাইলে মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে সংযোগ দিয়ে থাকেন। অপরদিকে দাবিকৃত টাকা না দিলে নানা টালবাহানায় সংযোগের নামে মাসের পর মাস গ্রাহকদের হয়রানি করা হয়। এছাড়াও  বিদ্যুৎ সরবরাহ সার্ভিস লাইন  ও বৈদ্যুতিক খুঁটিঁ মেরামত, বৈদ্যুতিক সার্ভিস লাইনের উপর ঝুলে থাকা সড়কের গাছ ও ডালপালা পরিষ্কার না করে প্রতিমাসে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয় মেরামত বাবদ সরকারি বরাদ্দকৃত বিদ্যুতের সরঞ্জামাদি তিনি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে এখন কোটিপতি বনে গেছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগে আরো জানাযায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এসটি ও এলটি লাইন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনবিহীন ট্রান্সফরমারসহ  শ্রী-নগর পূর্ব-পাড়ার মুকুল মাস্টারের বাড়ি থেকে রেহান মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ১৭টি খুঁটিঁ বসিয়ে লাইনটি চালু করে দিয়েছেন মফিজ উদ্দিন খান। ওই এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে সেচ পাম্প ব্যবহারকারী গ্রাহকরা মিটার সংযোগের জন্য তাগাদা দিলেও কোনো মিটার না দিয়ে গড় বিল করে মোটা অঙ্কের টাকা কামাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার অফিসে গিয়েও সাক্ষাৎ মেলেনি অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিন খানের। তার পরেও কয়েকদফায় তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. সাকিব হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি ভৈরব নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য বলেন ।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহবায়ক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে । তবে আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হবে বলে তিনি জানান ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Translate & English
Design & Developed BY ThemesBazar.Com