রবিবার, ২৩ Jun ২০১৯, ০৯:১২ অপরাহ্ন

Translator
Translate & English
সংবাদ শিরোনাম
স্মরনে নবাবসিরাজউদ্দৌলা। হলো না সব বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবাবি ব্যাপার স্যাপার। প্রধানমন্ত্রী:-সংসদে সত্যিকারের শক্তিশালী বিরোধী দল চেয়েছিলাম ৭ নম্বর বিপদ সংকেত মোংলা পায়রা বন্দরসহ ৯ জেলায় । নগরীতে আমিনুল হকের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল শ্রমেরমর্যাদা, ন্যায্যমজুরি, ট্রেডইউনিয়নঅধিকারওজীবনেরনিরাপত্তারআন্দোলনশক্তিশালীকরারদাবিনিয়েআশুলিয়ায়মেদিবসপালন । সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয়  প্রভাবশালী  মাদকব্যবসায়ী । জেলা খুলনার দাকোপে ব্রোথেলের নারীজাগরনী সংঘের সভানেত্রী রাজিয়া বেগম হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষলক্ষ টাকা। ঘু‌র্ণিঝড় ফ‌নি আঘাত আনতে পা‌রে ৪ মে, য‌দি বাংলা‌দে‌শে আঘাত হা‌নে ত‌বে্রে আক‌টি সিডর হ‌তে পা‌রে বাংলা‌দে‌শে।  গাজীপুরে ফ্রেন্ডস ট্যুরিজম আয়োজন করলো সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার ।

কোনাবাড়ির ফিটিং ডন রেজাউল মাস্টার

স্টাফ রিপোর্টার: মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন, ফ্লাটবাসায় যৌনব্যবসা, মানুষকে হয়রানি করে ফিটিং দেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের কোনাবাড়ির যুবদল (বিএনপি) নেতা রেজাউল করিম ও তাঁর বাহিনীদের বিরুদ্ধে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় ফিটিং বাহিনী গড়ে তুলে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে। তাদের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। রেজাউল ও তাঁর ফিটিং বাহিনীর কবলে পড়ে অনেকেই সর্বশান্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এক অনুসন্ধানে জানা যায়, রেজাউল মাস্টারের নেতৃত্বে হরিণাচালা পারিজাত এলাকায় ফ্লাটবাসায় চলে যৌনব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন। তলাবিহীন ঝুড়ির মালিক রেজাউল মাস্টার এসব অপকর্ম করে অল্পদিনেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। তিনি কোনাবাড়ির মতো শিল্প এলাকায় ফ্লাটবাড়িসহ তিনটি বাড়ির মালিক। যার মূল্য দুই কোটি টাকারও বেশি। অথচ এক সময় তিনি সবজি বিক্রেতা ছিলেন। মাস্টার পদবী লাভের জন্য কিছুদিন কেজি স্কুল খুলে ব্যবসা করেন সেই থেকে তিনি রেজাউল মাস্টার খেতাব পান। বিএনপিও ওই নেতা কোনাবাড়ি হরিণাচালা পারিজাত এলাকার ফিটিং সিন্ডিকেটের বড় ডন হিসেবে পরিচিত। অনেকেই তাকে মাদক ব্যবসা মাদক সেবন ও ফিটিং সিন্ডিকেটের ডন হিসেবেও আর্শীবাদ করেন। তিনি ওই এলাকাকে মাদক ও ফিটিং সিন্ডিকেটের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। কালিয়াকৈর থেকে এসে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁর বাহিনীর অন্যতম সদস্য আউয়াল মোল্লাসহ আলীর মতো ঠিকানা বিহীন টোকাইরা। আউয়াল ও আলীর বিরুদ্ধেও অভিযোগের অন্ত নেই। তাঁরা বেশিরভাগ বহিরাগত ভাড়াটিয়াদের হয়রানির করেন। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ওই বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকুরি ছেড়ে চলে গেছেন। এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উমরা পালনে সৌদিআরবে থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই জন প্রতিনিধির এক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন কাউন্সিলরের অজানতে এসব করেন কর্ম করেন তাঁরা। সূত্রে জানায়, রেজাউলের নেতৃত্বে চলে বিভিন্ন ফ্লাটবাসায় যৌনব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন। তিনি দেশের বিভিন্ন অ ল থেকে যৌনকর্মী এনে তিনি কোনাবাড়ির বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে সাপ্লাই দেন। নাম ধারী ওই মাস্টার মাদক ব্যবসার পাশাপাশি প্রকাশেই সেবন করেন মাদক। সম্প্রতি ’’সিনতিয়া কথা” নামে একটি ফেসবুক আইডিতে তাঁর মাদক সেবনের একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু প্রভাশালীদের ছত্রছায়ায় পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় তাঁরা নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে বেড়ান। বিএনপি ওই নেতার নেতৃত্বে ধর্ষণের মতো কঠিন বিচারও করেন তাঁরা। আদালত বা কোর্ট ছাড়া থানার ওসিও তা করতে পারেন না। অথচ তিনি এলাকার ধর্ষণের বিচার করে আর ধর্ষকদের কাছ থেকে ফিটিং দিয়ে উল্টো ধর্ষিতাকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেজাউল , আউয়াল ও আলীরা মিলে এলাকায় মাদকের স্বর্গরাজ্য ও ফিটিং সিন্ডিকেট তৈরির করে মানুষকে বিপদে ফেলে দুই’শ টাকা থেকে প াশ হাজার টাকাও তাঁরা ফিটিং দেয়। সম্প্রতি ধর্ষণের ঘটনায় শিকার হয়ে এক যুবতী স্থানীয় কাউন্সিলরের কার্যালয়ে বিচার দিতে গেলে রেজাউল এবং আউয়াল মোল্লা গংরা ওই ধর্ষিতার মুখের বর্ণনা শুনে ধর্ষককের ঠিকানায় গিয়ে ধরে এনে তাঁর কাছ থেকে প াশ হাজার টাকা নেয়। পরে তাঁরা ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ধর্ষিতাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই ধর্ষিতা যুবতী এলাকা ছেড়ে চলে যান। রেজাউল বাহিনীর কবলে পড়ে হরিণাচালার ইদ্দ্রিস পাঠানকে গীতি আক্তার নামের এক যুবতী নারীর ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে গীতি আক্তার নিজেই রেজাউলের বিরুদ্ধে বর্ণনা দিয়ে বলেন, যমুনা কারখানায় কাজ করার সুবাদে রুবেল নামের এক যুবকের সাথে পরিচয় হয়। সে গীতিকে রুবেল বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার অবৈধভাবে মেলামেশা ও অর্থকরী হাতিয়ে নেয়। ওই ঘটনায় রেজাউল মাস্টার ও তাঁর বাহিনীরা বিচার করে রুবেরের সাথে বিয়ে দেবার কথায় বলে ইদ্দ্রিস পাঠানকে ফাঁসাতে বলে। গীতি আরো বলেন, রেজাউল মাস্টারের শিখানো কথাই ইদ্দ্রিস পাঠানের দোষ দেই। আমি ইদ্দ্রিস পাঠানকে দোষাতে চাইনি মাস্টার আমাকে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়েছে। ইদ্দ্রিস বলেন, রুবেলের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে রেজাউল ফিটিং দেয়ার জন্য নাটোক সাজিয়ে ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, রেজাউল বিএনপি করে আর আলী এবং আউয়াল তাঁরাতো আওয়ামী লীগের কেউ না। কিন্তু এত সাহস পায় কোথা থেকে। আওয়ামী লীগের ওই নেতা আরো বলেন, এধরনের কর্মকান্ড অব্যহত থাকলে শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। স্থানীয়রা জানান, কাউন্সিলর মোঃ সেলিম রহমানের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় এমন অপরাধমূলক কর্মকান্ড অনেক দিন ধরেই করছে তাঁরা। এতে করে কাউন্সিলরের জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছে। কোনাবাড়ি থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, এদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ এসেছে বিষয়টি দেখছি। পোড়াবাড়ী ক্যাম্প, গাজীপুর র‌্যাব-১ স্পেশালাইজড কোম্পানী লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রিপোর্ট করে একটি পত্রিকা পাঠিয়ে দিন ব্যবস্থা নিচ্ছে। কে এই রেজাউল করিম মাস্টার : ১৯৯০-৯৩ সালের দিকে বাবা আক্তারুজ্জামানের হাত ধরে রংপুর থেকে তলাবিহীন ঝুড়ি হতে করে কোনাবাড়ির বাইমাইল এলাকায় এসে আশ্রয় নেয়। পরে কাশিমকটন মিলে তাঁর বাবা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তিতে বাবা সবজির দোকানও করতেন। বাবার সাথে সবজি দোকানে কাজ করতে করতে মূলত বাটপারি শিখেছে। এর পরে পারিজাত এলাকায় বসবাস শুরু করেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। কোনাবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদ নিয়ে বেশ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শুরু করেন চুরি আর ডাকাতি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ঝুটব্যবসার নামে চুরি ও ডাকাতি করে রাতারাতি লাখ লাখ টাকার মালিক বনে যান। বেশ বিএনপি’র নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুকীর রাজেন্দ্রপুরের গার্মেন্টস ডাকাতি হলে রেজাউলের ঝুটগুদাম থেকে ডাকাতির হওয়া সেই মাল উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ডাকাতি মামলায় হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Translate & English
Design & Developed BY ThemesBazar.Com