শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
“অভিনন্দন” সাধারন শ্রমিকদের আতঙ্কিত হওয়া কারন নেই।  নাগরিক-হয়রানীর শিকার হচ্ছে খুলনা দৌলতপুর ভূমি অফিসে কুমিল্লায় মাটি চাপা দেয়া অজ্ঞাত তরুণের লাশ উদ্ধার দাকোপের বাজুয়ায় ধানের পালায় আগুন লাগিয়ে সাড়েনয় বিঘা  বিঘা জমির ধান্য নষ্ট করেছে দুর্বিত্তরা। সারা দেশে ৬৪ হাজার বাড়ি তৈরী করে দেবে আ.লীগ সরকার : ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান গত অর্থ বছরে চৌদ্দ কোটি টাকার মত রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছে- খুলনা দৌলতপুর সাবরেজিষ্টার কার্যালয় এ- বেনাপোলের পুটখালী সিমান্ত থেকে ভারতীয় পিস্তল উদ্ধার বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম সন্ত্রাস, মাদকদ্রব্য নির্মুল ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নতির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন আইটি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপান ও বাংলাদেশ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর সহযোগীতায় নিজ ভূমি ফেরৎ চাচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর সহযোগীতায় নিজ ভূমি ফেরৎ চাচ্ছে।

এম এ কাউসার তুষারঃবিগত ১৯৮১-৮২ অর্থ বছরে প্রেট্টোবাংলার তিতাশ গ্যাস কোম্পানী ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে সংলগ্ন হবিগঞ্জ জেলাধীন মাধবপুর (পশ্চিম) গ্যাস ফিল্ডের মাটি ভরাট ও চারদিকে বাউন্ডারী নির্মানের জন্য উম্মোক্ত টেন্ডারের আহ্বান করে। উক্ত টেন্ডারের সরকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এছাক এন্ড ব্রার্দ্রাস কাজ পান-যার প্রধান কার্যালয় গ্রাম-খেতাসার,ডাকঘর- হালিমা নগর, উপজেলা আদর্শ সদর (উত্তর) জিলা- কুমিল্লা। গ্যাস ফিল্ড নির্মাণের পূর্বে জলাশয় ভরাটের জন্য মাটি ক্রয় করতে চাইলে কোন ব্যক্তি মাটি দিতে অস্বীকার করে-ভূমি ক্রয় করে নিজ ভূমি হতে মাটি নিতে বলে স্থানীয় লোকজন। এমতাবস্থায় এছাক এন্ড ব্রাদার্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ এছাক মিয়া-হবিগঞ্জ জেলার পশ্চিম, জে এল নং- ৮০ মৌজার দাগ নং- ৩৪৫-৩৬শতক, ৩৪৪-২৭শতক,৩৪৭-১১শতক,৩৫০-১৮শতক, ৩৭৮-১১শতক, ৩৮০-১২শতক,৩৭৭-৪৯শতক,৩৭৬-৪৭শতক,৩৪৩-৬শতক মোট ২১৮ শতক জমি বায়না সূত্রে ক্রয় করেন-মেসার্স এছাক এন্ড বাদ্রার্স এর কর্ণদার মোঃ এছাক মিয়া মাধপপুর গ্যাস ফিল্ডের পিছনে যথাক্রমে-১। তাহের উদ্দিন সরদার, পিতা-মৃত রেহান উদ্দিন সরদার, ২। মোঃ আলাউদ্দিন,পিতা- মৃত রেহান উদ্দিন সরদার,৩। জিয়ার উদ্দিন, ৪। ইসার উদ্দিন, ৫। অলক চাঁন এর কাছ হতে। পানি ভূমির মূল্য ৫০,০০০/= দরে নি¤œ তফসিল ভূমি ক্রমের বায়না পত্র করিয়া লয়। উক্ত বায়না পত্রের টাকা মের্সাস এছহাক এন্ড বাদ্রার্স এর চেক ও ভাউচারের মাধ্যেমে ১৫-০৫-১৯৮২ইং তারিখে মারফত আলী নগদ ৩৫,০০০/=, ২০-০৪-১৯৮২ইং এ ৪৪,০০০/=, ০৫-০৪-১৯৮২ইং তারিখে মোঃ আলাউদ্দিন ১০০,০০০/=, ০৬-০৪-১৯৮২ইং তারিখে তাহের উদ্দিন ১০,০০০/=, ২০-০৪-১৯৮২ইং তারিখে আলাউদ্দিন ৬২,৫০০/=, ০৫-০৪-১৯৮২ইং তারিখে তাহের উদ্দিন ৫০,০০০/=, ০৫-০৫-১৯৮২ইং এ (অলক চাঁন্দের পক্ষে) সরাফত আলী ৩০,০০০/= ০৫-০৫-১৯৮২ইং এ (অলক চাঁন্দের পক্ষে) সরাফত আলী ৭৫,৫২৯/= ও আলী মিয়া ৮,৪০০/= সর্বমোট ৪১৫৪২৯ টাকা স্বহস্থে স্বাক্ষরে গ্রহন করেন।
অতঃপর উক্ত ভূমির মাটি কেটে মাধপপুর গ্যাস ফিল্ডের মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হইলে ভূমিটি জলাশয় পরিণত হয় এবং গ্যাস ফিল্ডের সমস্ত কাজ বুঝিয়া দিয়া-ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এছাক এন্ড বাদ্রার্স অন্যান্ন জেলায় সরকারী ঠিকাদারী কাজ চলার কারণে মোঃ এছাক মিয়া অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উক্ত জলাভূমিতে মাছ চাষ করার জন্য মাধপপুর গ্রামের মোঃ আলী আকবর, গ্রাম+পোঃ- মাধপপুর, পিতা- মৃত মজর আলী এছাক মিয়ার কাছে গিয়ে অনুনয় বিননয় করে বলে-একটু ভালোভাবে চলতে পারবে তার ভূমিতে মাছ চাষ করার সুযোগ দিলে-তিনি কুলির কাজ ছেড়ে একটু স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারবে। এছাক মিয়া সরল মনে তার কথায় বিশ্বাস করে বাৎসরিক ৩০,০০০/= ভাড়া নির্ধারন করে আকবর আলীর কাছে জলাভূমি লিজ দেয় ৩০-০৬-১৯৮৪ইং সালে। এভাবে কিছুদিন অতিবাহীত হওয়ার পর মাছ চাষের পাওনা বাবদ ২৯-১১-১৯৮৪ইং-৫০০০, ১১-১২-১৯৯৮৪ইং -৫০০০, ১৮-১২-১৯৮৪ইং-১০০০০, ০৫-০১-১৯৮৫ইং-৪৫০০,১১-০৪-১৯৮৫ইং-৫০০, ০৮-০৫-১৯৮৫ইং-১৭০০, ১১-০৪-১৯৮৪ইং-৯৩০০, ১৬-০৫-১৯৮৫ইং-৫০০০, ২১-০৫-১৯৮৫ইং-১০০০০, ২২-০৫-১৯৮৪ইং-৭৫০০, সর্বমোট ৫৪০০০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে আকবর আলী মাছ চাষের পাওনা টাকা দিব দিচ্ছি বলে এছাক মিয়াকে টাকা দেয়নি। আলী আকবর ১৭-০৯-১৯৮৭ইং তারিখে একটি সহস্থে লিখিত পত্র পাঠায় এছাক মিয়ার কাছে ঢাকাস্থ ক্যান্টমেন্ট মাটিকাটা তার বাসার ঠিকানায়। পত্রে উল্লেখ্য- এছাক মিয়া ভাই, প্রথমে আমার সালাম নিবেন, আশা করি খোদার ফজলে ভালো আছেন, যাক এখন আমি আপনাকে বলিয়াছিলাম বুধবার তিন হাজার টাকা দিব কিন্তু আমি ঢাকা হতে আমদানি পাইনা। আগামী মাসের ০৫-১০-১৯৮৭ইং তারিখে আপনাকে ২৫০০০ টাকা দিব আপনি আসুন। উক্ত চিঠি পেয় কিছুদিন পর এছাক মিয়া মাধুপপুর এসে শাহীন বোডিং এ ১ নং কক্ষে উঠেন। আকবর আলীকে খবর দিলে আকবর আলী লোকজন নিয়ে উক্ত বোর্ডিং এসে এছাক মিয়ার সাথে খারাপ ব্যবহার করে, অস্ত্রের মুখে তাঁর ব্রিফক্রেস কেঁড়ে নেয়, ব্রিফক্রেসে ছিল জমির প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ও নগদ ৪ লক্ষাধিক টাকা। যার প্রেক্ষিতে এছাক মিয়া মাধপপুর থানায় সাধারন ডায়েরী করেন। পরবর্তীতে তিনি কাজে দেশের বাইরে গিয়ে ২০১১ সালে দেশে ফিরে আসেন। এসে তিনি আকবর আলীর কাছে ২৮ বছরের খাজনার টাকা বাৎসরিক ৩০০০০ হাজার টাকা করে মোট = ৮৪০০০০ পাওনা টাকা দাবী করেন, এবং জলাশয় ছাড়িয়া দিতে বলেন। কিন্তু আকবর আলী ছলচাতুরী শুরু করে, তথ্যে পেয়ে-জানান-আকবর আলীর ছলচাতুরীর কারণ উদ্ঘাটনের জন্য মাঠে নামেন একদল অনুসন্ধানী সংবাদকর্মী-

মাধপপুর ভূমি অফিসে সরেজমিনে তদন্ত করে তারা জানান-এক জাল দলিলের কাহিনী, তদন্তে বেরিয়ে আসে ৩ টি ভূয়া দলিল। যার দলিল নং- ১। ২৩৩২/৯২,২। ৪৩৭৮/৮৫, ৩। ৪৩৭৯/৮৫। ২৩৩২ নং দলিলে সাব কবলা মূল্য ৯০০০/০০ মোং ৪৬শতক সাজানা মং ১/৫০ মৌজা কৃষ্যপুর কিছমত ইং মোঃ আবু ছায়েদ মোল্লা, পিতা- হাজী মোঃ আবুল খালেক মোল্লা সাং -কৃষ্য পুর,পং- মন্ডলা, উপাজেলা- মাধপপুর, বিক্রেতা হিসাবে দেখানো হয়। দলিল নং ৪৩৭৮ এ দেখানো হয়- সাবকবলা ২০০০০ মোং ৪৯ শতক মং ১.২৫ পং মৌজা মাধপপুর পশ্চিম, থানা- মাধপ পুর, আকবর আলীকে ক্রেতা ও বিক্রেতা হিসাবে ১। হাজী ইছার উদ্দিন, ২। মোঃ কাদির, পিতা- মৃত হাজী ফজর আলী, ৩। তাহের উদ্দিন, ৪। মোঃ আলাউদ্দিন, পিতা- মৃত রেহান উদ্দিন, ৫। ছালেহা খাতুন ৬। মোসাম্মদ খাতুন্নেসা,৭। দুরু মিয়া, ৮। মোসাম্মদ জাহিরা খাতুন, ৯। আলক চান বিয়া, ১০। বছির উদ্দিন, ১১। সুলতান মিয়া ১২। আলী হোসেন ১৩। ছুট্টু মিয়াকে বিক্রেতা দেখানো হয়। দলিল নং ৪৩৭৯/৮৫ইং সাবকবলা মূল্য ২৫০০০ টাকা ৫৬শতক ১। তাহের মিয়া ২। জিয়ার উদ্দিন ৩। আলাউদ্দিনকে বিক্রেতা হিসাবে দেখানো হয়। কিন্তু উক্ত দলিলে দেখানো বিক্রেতা ও তাদের ওয়ারিশগণ দের সাথে আলোচনা করে সংবাদকর্মীগণ জানান-সব কিছুই ভূয়া করা হয়েছে ভূমি অফিসের রেজিষ্টার ও দলিল লেখক আনছার আলীর সহযোগীতায়। এই অপকর্মের মূল হোতা হিসাবে সংবাদকর্মীগণ উক্ত দুইজনকে চিহ্নিত করেছে। পরবর্তীতে ২০১৭ইং সনের ২২ জানুয়ারী-তে এছাক মিয়া ইন্তেকাল করলে তাঁর একমাত্র পুত্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর সহযোগীতায় উক্ত ভূমি সহজভাবে ফেরৎ চাচ্ছে। কারণ-সরকারী উক্ত কাজ সম্পাদনের জন্য এছাক এন্ড ব্রাদার্স এর কর্ণধার মোঃ এছাক মিয়া সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর কাজ বুঝিয়ে দিয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ বোরহান হাওলাদার(জসিম)

Design & Developed BY ThemesBazar.Com