শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
“অভিনন্দন” সাধারন শ্রমিকদের আতঙ্কিত হওয়া কারন নেই।  নাগরিক-হয়রানীর শিকার হচ্ছে খুলনা দৌলতপুর ভূমি অফিসে কুমিল্লায় মাটি চাপা দেয়া অজ্ঞাত তরুণের লাশ উদ্ধার দাকোপের বাজুয়ায় ধানের পালায় আগুন লাগিয়ে সাড়েনয় বিঘা  বিঘা জমির ধান্য নষ্ট করেছে দুর্বিত্তরা। সারা দেশে ৬৪ হাজার বাড়ি তৈরী করে দেবে আ.লীগ সরকার : ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান গত অর্থ বছরে চৌদ্দ কোটি টাকার মত রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছে- খুলনা দৌলতপুর সাবরেজিষ্টার কার্যালয় এ- বেনাপোলের পুটখালী সিমান্ত থেকে ভারতীয় পিস্তল উদ্ধার বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম সন্ত্রাস, মাদকদ্রব্য নির্মুল ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নতির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন আইটি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপান ও বাংলাদেশ
ভালো হলো না চ্যাম্পিয়নদের খেলা

ভালো হলো না চ্যাম্পিয়নদের খেলা

ক্যাচটি ফসকে গেল সোহাগ গাজীর হাত থেকে! অল্প পুঁজি নিয়েও চিটাগং ভাইকিংসকে ভালোই চেপে ধরেছিল রংপুর রাইডার্স। ম্যাচের ভাগ্য যখন দুলছে, তখনই ভাইকিংসকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া রবি ফ্রাইলিঙ্ক (ছবিতে নেই) ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন, যা রাখতে পারেননি রংপুরের অফস্পিনার। ম্যাচ আর রংও বদলায়নি ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৬৯ বলে ১৪৬ রান। এক ইনিংসেই ১৮ ছক্কা। গতবারের বিপিএলে ফাইনালে এমন খুনে ব্যাটিংয়েই তো রংপুর রাইডার্সকে শিরোপা জেতান ক্রিস গেইল। একক দক্ষতায়। বিস্ফোরক ক্যারিশমায়।

বিপিএলের দামামা বেজে ওঠার দিনে কাল সকালে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন সেই ক্যারিবিয়ান দানব। কিন্তু দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তিতে মাঠে নামার অবস্থায় ছিলেন না। তাতে কী? ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের তো তবু চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে জয় ছিল প্রত্যাশিত। সে প্রত্যাশায় কুঠারাঘাত ব্যাটিং ব্যর্থতায়। তবু যদি সোহাগ গাজী রবি ফ্রাইলিঙ্কের তুলে দেওয়া ক্যাচটি হাতে জমাতে পারতেন!

পারলে অনেক কিছুই হতে পারত। মাত্র ৯৮ রানে অল আউট হয়েও ম্যাচটি জিতে যেতে পারত রংপুর রাইডার্স। শেষ ২ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১৩ বলে ১০ রানের প্রয়োজনীয়তার সামনে দাঁড়াত যে চিটাগং ভাইকিংস! লো স্কোরিং রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পরিণতি হতো আরো রোমাঞ্চকর। কিন্তু রিটার্ন ক্যাচ মুঠোবন্দি করতে পারেন না সোহাগ। শিরোপা ধরে রাখার অভিযান জয়ে শুরু করতে পারে না মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। তাদের ৩ উইকেটে হারিয়ে চিটাগং ভাইকিংস বরং জন্ম দেয় অঘটন।

অঘটন নয়তো কী? একে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। টি-টোয়েন্টির বিনোদনের ফেরিওয়ালা গেইলকে ধরে রাখার পাশাপাশি এবি ডি ভিলিয়ার্স ও অ্যালেক্স হেলসের মতো বিস্ফোরক দুজনকে যোগ করেছে এবার। কাল প্রথম ম্যাচে অবশ্য ত্রয়ীর মধ্যে শুধু ইংলিশ ব্যাটসম্যানকেই মাঠে নামাতে পারে রংপুর। গেইলের কথা আগেই বলা আর প্রোটিয়া তারকা এখনো এসে পৌঁছাননি। তবু কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে মাত্র ৯৮ রানে অল আউট হয়ে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা! এই রান নিয়েও জয়ের অমন মরিয়া চেষ্টার জন্য রংপুর রাইডার্সের বোলার-ফিল্ডাররা বরং কৃতিত্বের দাবিদার।

জাতীয় নির্বাচনের কারণে বিপিএলের এবারের আসর মাঠে গড়াচ্ছে দেরি করে। তড়িঘড়ি আয়োজনে প্রচারণার অভাব স্পষ্ট। সেখানে প্রথম ম্যাচে মহাতারকাদের নিয়ে গড়া দল রংপুর রাইডার্সের এমন পরিণতি! ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে রঙিন আসরের শুরুটা হলো তাই রং হারিয়ে।

রংপুর রাইডার্সের সর্বনাশের করব খোঁড়া হয় ব্যাটিংয়েই। টি-টোয়েন্টিতে ৯৮ রান গোনার মধ্যে ধরে কে? তবু সেটিকে অনেক মনে হবে যখন জানবেন মাত্র ৩৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছিল শিরোপাধারীরা। টস জিতে মুশফিকুর রহিম যখন ব্যাটিংয়ে পাঠায় মাশরাফির দলকে, তখন এতটা নিশ্চয়ই চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়কও আশা করেননি।

হেলসের গোল্ডেন ডাকে রংপুরের নড়বড়ে শুরু। দ্রুতই তাঁকে অনুসরণ করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন মোহাম্মদ মিঠুন (০), রাইলি রুশো (৭) ও মেহেদী মারুফ (১)। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেন না। এর তিন উইকেট আবার চৌত্রিশ বছর পেরোনো ফ্রাইলিঙ্কের শিকার। বেনি হাওয়েল, ফরহাদ রেজা এবং মাশরাফিও আউট হলে পঞ্চাশের নিচে গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিল রংপুর রাইডার্স। ভাগ্যিস, স্রোতের বিপরীতে রবি বোপারা দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন।

অষ্টম উইকেটে সোহাগকে নিয়ে প্রতিরোধের বাঁধ দেন ওই ইংরেজ। গড়ে তোলেন ৪৯ রানের জুটি। সোহাগকে (২১) আউট করে জুটি ভাঙার পাশাপাশি নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন ফ্রাইলিঙ্ক। বোপারার ৪৭ বলে ৪৪ রানের ইনিংসও পারে না রংপুরের ইনিংস তিন অঙ্কে নিয়ে যেতে। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার সময় স্কোরবোর্ডে তাদের মোটে ৯৮ রানের পুঁজি।

এই পুঁজি নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে জয়ের আশা করা যায় না। কিন্তু কী প্রবল বিক্রমেই না লড়াই করল রংপুর রাইডার্স। চিটাগং ভাইকিংসকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দেয় তারা। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম মাঠে নামা মাশরাফির প্রথম ব্রেক থ্রুর পর এবারের বিপিএলে দেখা যায় আরেক ‘প্রথম’। এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ পাতানোর দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া মোহাম্মদ আশরাফুল বিপিএলে পাঁচ বছর বাদে মাঠে নামেন আবার। কিন্তু পাঁচ বলে তিন রান করেই আউট; ফ্লিক করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যাওয়া বলে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে। মোহাম্মদ শেহজাদ ও অধিনায়ক মুশফিক দলের স্কোর ৫০ পেরিয়ে নিয়ে গেলে একতরফা ম্যাচ হচ্ছে বলেই ধরে নেয় সবাই। কিন্তু একের পর এক উইকেট তুলে অসম্ভব এক স্বপ্নের পেছনে ছুটছিল রংপুর। ১৭তম ওভারে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিককে (২৫) আউট করার পর স্বপ্নপূরণ আর খুব অসম্ভব মনে হচ্ছিল না। শুধু যদি এরপর সোহাগ গাজী ওই রিটার্ন ক্যাচটি ধরতে পারতেন!

পারেননি। পারেননি বলে রংপুর রাইডার্সও গতবারের মতো জয়ে বিপিএল শুরু করতে পারেনি। না-ই বা হলো তা! শুরুটা গতবারের না হলেও শেষটা গতবারের মতো রাঙিয়ে দেওয়ার ঢের সময় তো রয়েছে এখনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ বোরহান হাওলাদার(জসিম)

Design & Developed BY ThemesBazar.Com