শুক্রবার, ১৪ Jun ২০১৯, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

Translator
Translate & English
সংবাদ শিরোনাম
স্মরনে নবাবসিরাজউদ্দৌলা। হলো না সব বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবাবি ব্যাপার স্যাপার। প্রধানমন্ত্রী:-সংসদে সত্যিকারের শক্তিশালী বিরোধী দল চেয়েছিলাম ৭ নম্বর বিপদ সংকেত মোংলা পায়রা বন্দরসহ ৯ জেলায় । নগরীতে আমিনুল হকের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল শ্রমেরমর্যাদা, ন্যায্যমজুরি, ট্রেডইউনিয়নঅধিকারওজীবনেরনিরাপত্তারআন্দোলনশক্তিশালীকরারদাবিনিয়েআশুলিয়ায়মেদিবসপালন । সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয়  প্রভাবশালী  মাদকব্যবসায়ী । জেলা খুলনার দাকোপে ব্রোথেলের নারীজাগরনী সংঘের সভানেত্রী রাজিয়া বেগম হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষলক্ষ টাকা। ঘু‌র্ণিঝড় ফ‌নি আঘাত আনতে পা‌রে ৪ মে, য‌দি বাংলা‌দে‌শে আঘাত হা‌নে ত‌বে্রে আক‌টি সিডর হ‌তে পা‌রে বাংলা‌দে‌শে।  গাজীপুরে ফ্রেন্ডস ট্যুরিজম আয়োজন করলো সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার ।
পরিচয়েও গরম ক্রিকেটযোদ্ধার রক্ত

পরিচয়েও গরম ক্রিকেটযোদ্ধার রক্ত

হাতে গোনা কটা মাত্র দিন। তবু গতকাল মিরপুরের বিসিবি একাডেমির জিমনেসিয়ামে দুজনের সাক্ষাতে যেন দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ মুছে যাওয়ার উচ্ছ্বাস। আসলে ওরকম কিছুই নয়। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গতকালই প্রথম দেখা মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে। পাশের ছবিতে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের হাস্যোজ্জ্বল ছবির প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন। এক বিপিএলের ‘বিচ্ছেদ’ তাঁদের মিলিত করেছে আরেকটি বিপিএল! বেশভূষায় আলাদা কোনো বিশেষত্ব নেই। বেশির ভাগ সময়ই যে পোশাক-পরিচ্ছদে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেখা যায় তাঁকে, সেভাবেই কাল দুপুরের দিকে ঢুকলেন। গায়ে সেই বাংলাদেশ দলের প্র্যাকটিস জার্সি এবং ট্রাউজার। দেখে বোঝার উপায় নেই যে নামের পাশে পদবি আর পদমর্যাদার ভার আরো অনেক ওপরে তুলে নিয়েছে তাঁকে। সেটি বোঝা গেল তখন, যখন তাঁর আসার খবরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাপারসনরা মিরপুরের একাডেমি মাঠের প্রবেশপথ দখল করে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে গেলেন। করিডর ধরে হেঁটে আসা মাশরাফি বিন মর্তুজার ফুটেজ যে চাই-ই চাই!

কারণ বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের এদিনের মাঠে আসা যে শুধুই এই পরিচয়ে নয়, সংসদ সদস্য হিসেবেও। নতুন পরিচয়ে মাঠেও পা রাখলেন কালই প্রথম। তাই প্রচারমাধ্যমের কাছেও স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পেলেন সবচেয়ে বেশি। নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর গত পরশুই ঢাকায় ফিরেছেন। কাল দুপুরে চেনা পোশাকে জিম করতে আসার আগে সকালে গিয়েছিলেন গণভবনেও। নির্বাচিত অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করেই আর বিলম্ব করেননি। নির্বাচন শেষে যে এবার আবার খেলায় মনোযোগী হওয়ার পালা। ৫ জানুয়ারি থেকে বিপিএল শুরু হওয়ার আগে জিমের খাটুনিতে শরীরটাকে ঠিকঠাক করে নেওয়ার ব্যাপারও আছে। তাই তাঁর দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের অনুশীলন এখনো শুরু না হলেও তিনি নিজেকে তৈরি রাখতে একাডেমির জিমে চলে এসেই তাক করা অসংখ্য ক্যামেরার সামনে।

সকালে গণভবনে দেখা হওয়ার সময়ই তাঁর এই সূচি জানা হয়ে গিয়েছিল কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত নাজমুল হাসানেরও। জানেন বলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি বুঝেছেন যে জনপ্রতিনিধির পরিচয়ে পৃথিবী অনেকখানি বদলে গেলেও মাশরাফির কাছে প্রাধান্যে সবার আগে ক্রিকেটই, ‘ওর মনের মধ্যে যে সারাক্ষণই ক্রিকেট আছে, এতে কোনো সন্দেহই নেই। কারণ ও একদম ওখান (গণভবন) থেকে সরাসরি অনুশীলনে চলে গিয়েছে। বিপিএল শুরু হতে যাচ্ছে। সুতরাং নিজের খেলার প্রতি সম্পূর্ণ সিরিয়াস আছে। একটুও পরিবর্তন হয়নি। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে যখন আমরা নির্বাচনের মাঠে চলে গিয়েছি এবং এলাকায় কাজ করছি, তখন কিন্তু সে খেলছিল। ও অনেক দেরি করে গিয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে এখনো খেলাটিই ওর কাছে বেশি প্রাধান্য পায়।’

তাই বলে গুরুত্বে নিজ এলাকাও যে পিছিয়ে নেই, সকালের আলাপে তাও বুঝতে বাকি নেই বিসিবি সভাপতির, ‘‘মাশরাফি রাজনীতিতেও অনেক বেশি সিরিয়াস। এলাকার কাজ নিয়েও ওর মাথায় অনেক চিন্তা। এলাকার মানুষের জন্য ও কিছু করতে চায়। আজকেও যতক্ষণ সে আমার সঙ্গে ছিল, একই কথা বলেছে যে, ‘পাপন ভাই, আমার এটা লাগবে, ওটা লাগবে।’ আমি শুধু বলেছি সব হবে। আগে শপথটি নিয়ে নাও, মন্ত্রিপরিষদ গঠন হোক, তুমি যা যা চাও সব হবে। এগুলো নিয়ে চিন্তা করো না।’’

এলাকার কাজে নেমে পড়ার আগে খেলোয়াড় থাকা অবস্থায়ই মাশরাফির সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটিকেও অনেক বড় ব্যাপার মনে করেন নাজমুল, ‘এটি তো সাংঘাতিক ব্যাপার। আমার মনে হয় ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এটি হতে যাচ্ছে। আমার এটি জানা নেই বা কখনো শুনিনি যে একজন সংসদ সদস্য ক্রিকেট খেলছে মাঠে এবং অধিনায়কত্ব করছে। সুতরাং এটি নতুন হবে এবং আমি অনেক রোমাঞ্চিত এটি নিয়ে। আমার মনে হয় এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না।’ যদিও তাঁর রাজনীতিতে আসা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। এই ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্য নিয়ে সংশয়ও আছে অনেকের মনে। তবে খেলার মাঠে সফল হওয়ার চেষ্টায় যে কোনো কমতি রাখবেন না মাশরাফি, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই নাজমুলের। কারণ মাশরাফির ধমনিতে প্রবাহিত হতে থাকা যোদ্ধার রক্ত, ‘মাশরাফি এখন পর্যন্ত যা করেছে, এ দেশের মানুষের জন্য সেটিই যথেষ্ট হওয়া উচিত। ওর জীবন একরকমই থাকবে না। ও এমন একটি সময়ে আছে, যখন কিনা প্রায় শেষের দিকে। যেকোনো সময় অবসরে চলে যেতে পারে। আমরা চাই যত দিন সে খেলতে পারে খেলুক। এটা নিয়ে কোনো সংশয়ই নেই যে ও তার সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করবে। পারফরম্যান্স কী হবে জানি না। কিন্তু সে যে চেষ্টা করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ও হচ্ছে সত্যিকারের যোদ্ধা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Translate & English
Design & Developed BY ThemesBazar.Com