শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
“অভিনন্দন” সাধারন শ্রমিকদের আতঙ্কিত হওয়া কারন নেই।  নাগরিক-হয়রানীর শিকার হচ্ছে খুলনা দৌলতপুর ভূমি অফিসে কুমিল্লায় মাটি চাপা দেয়া অজ্ঞাত তরুণের লাশ উদ্ধার দাকোপের বাজুয়ায় ধানের পালায় আগুন লাগিয়ে সাড়েনয় বিঘা  বিঘা জমির ধান্য নষ্ট করেছে দুর্বিত্তরা। সারা দেশে ৬৪ হাজার বাড়ি তৈরী করে দেবে আ.লীগ সরকার : ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান গত অর্থ বছরে চৌদ্দ কোটি টাকার মত রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছে- খুলনা দৌলতপুর সাবরেজিষ্টার কার্যালয় এ- বেনাপোলের পুটখালী সিমান্ত থেকে ভারতীয় পিস্তল উদ্ধার বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম সন্ত্রাস, মাদকদ্রব্য নির্মুল ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নতির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন আইটি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপান ও বাংলাদেশ
২০১৮ ফুরিয়ে এলো। নতুন বছরে পা রাখার আগে পুরনো বছরের খেরোখাতায় কত কাটাকুটি। আর সব কিছুর মতো বছরটা কেমন গেল দেশ-বিদেশের খেলার ভুবনের? তারই ধারাবাহিক সালতামামির প্রথম পর্বে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব মিলিয়েছেন মাসুদ পারভেজ

২০১৮ ফুরিয়ে এলো। নতুন বছরে পা রাখার আগে পুরনো বছরের খেরোখাতায় কত কাটাকুটি। আর সব কিছুর মতো বছরটা কেমন গেল দেশ-বিদেশের খেলার ভুবনের? তারই ধারাবাহিক সালতামামির প্রথম পর্বে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব মিলিয়েছেন মাসুদ পারভেজ

সাফল্যের বছর আবার একই সঙ্গে পূর্ণতার শেষ ধাপে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার অপূর্ণতারও। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে থাকা বছরে মহাকালের জন্য রেখে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের ছাপটা এ রকমই মিশ্র।

আবার এমনও নয় যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের দিক থেকে বাংলাদেশ সাফল্যের সোনারোদে ঝকমকই করেছে শুধু। কখনো কখনো ব্যর্থতার কাঁটায় হতে হয়েছে ক্ষতবিক্ষতও। সেই হিসাবে শেষ হতে চলা ২০১৮ অম্লমধুরও।

সব মিলিয়েই তৈরি হওয়া প্রাপ্তির ব্যালান্স শিট জানাচ্ছে, সাফল্যের পাল্লাই ভারী। যে পাল্লায় থাকতে পারত আরো অনেক অর্জনের আনন্দও। বিশেষ করে ত্রিদেশীয় কিংবা বহুজাতিক আসরের শিরোপা ছোঁয়ার অধরা স্বপ্নের নাগাল পেতে পেতেও না পাওয়ার বঞ্চনায় পুড়তে না হলে বছরটি হতো আরো সাফল্যরাঙা।

এই বছরেই যে তিন-তিনটি ফাইনালে হারের বেদনায় নীল হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বছরের শুরুতেই নিজেদের মাটিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টে। এরপর মার্চে শ্রীলঙ্কায় স্বাগতিকদের দর্শক বানিয়ে নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফির ফাইনালেও একই পরিণতি। সবশেষ গত সেপ্টেম্বরে দুবাইতে ওয়ানডে ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালেও শেষ বলে হার। একবার ভেবে দেখুন তো, তিনটি আসরেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলে কেমন হতো? ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে এটিই হতো বাংলাদেশের সেরা বছর। চূড়ান্ত সাফল্যের নিরিখে উপসংহারটা এমন হতোই হতো। এমনকি একটি কিংবা দুটি শিরোপায়ও তা বলার সুযোগ উন্মুক্ত থাকত। আর যা-ই হোক, দুইয়ের অধিক দলকে নিয়ে আয়োজিত কোনো আন্তর্জাতিক আসরের ট্রফি তো এর আগে কখনোই তুলে ধরা হয়নি বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের। জানুয়ারিতে তা তুলে ধরতে পারতেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সেপ্টেম্বরেও আরেকবার সে সুযোগ এসেছিল তাঁর সামনে। মাঝখানে মার্চে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও তুঙ্গস্পর্শী সে আনন্দে অবগাহন করতে পারেননি অল্পের জন্য।

চূড়ান্ত সাফল্যের তীর থেকে এতবার ফিরে আসার পরও দেখা যাচ্ছে ২০১৮ সালকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা বছর বলার সুযোগ আছে। সে জন্য খুব গভীরেও যেতে হবে না, সাদামাটা তথ্য-পরিসংখ্যানই জোরেশোরে সে ঘোষণা দিয়ে চলেছে। এই বছরেই যে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। এই বছর অবশ্য নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচও খেলেছে তারা। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৪৪টি ম্যাচ খেলেছে এই বছর। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে এই প্রথম ৪০-র বেশি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ২১ ম্যাচে। এর মধ্যে সাফল্যের হার স্বাভাবিকভাবেই ওয়ানডেতে বেশি। ২০ ওয়ানডের মধ্যে জয় ধরা দিয়েছে ১৩টিতেই। ৮টি টেস্ট খেলা বাংলাদেশ ২০১৮ সালে জিতেছে ৩টিতে। তুলনায় টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানই যা একটু রুগ্ণ দেখাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ গত জুনে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ। যেটিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশ এই ফরম্যাটেও কিন্তু আলো ছড়িয়েছে। তবু ওই একটি সিরিজের ব্যর্থতাই টি-টোয়েন্টির পরিসংখ্যান আরো উজ্জ্বল হতে দেয়নি। তাদের খেলা ১৬টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে জয় তাই মাত্র ৫টিতে।

২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজেদের শততম টেস্ট জেতা বাংলাদেশ নিজেদের আঙিনায় অস্ট্রেলিয়াকেও হারায়। সে বছর ইংল্যান্ডে খেলে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালও। এরই ধারাবাহিকতা প্রত্যাশিত ছিল ২০১৮-তেও। বছরটি শুরুও হয়েছিল প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়েই। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই অনায়াস জয়ে ফাইনালে উঠে যাওয়া বাংলাদেশ ধাক্কাটা খায় এরপরই। ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেলে শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটের হার। এরপর ফাইনালেও ৭৯ রানের হারে আরেকটি স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। যার প্রভাব পড়ে টেস্ট সিরিজেও। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র করলেও ঢাকায় লঙ্কানদের কাছে ২১৫ রানের হার। একই দলের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয় দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও।

তাই মার্চে কলম্বোয় নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফি খেলতে যাওয়ার সময় খুব বড় কিছুর প্রত্যাশাও ছিল তা ক্রিকেটারদের কাছে। কিন্তু লঙ্কানদের ‘নিজভূমে পরবাসী’ বানিয়ে ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ ফাইনালে ভারতের কাছে হারে শেষ বলে। সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের ফাইনালেও তাই। এর মাঝখানে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফর একই সঙ্গে দুঃস্বপ্নের এবং আনন্দের। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে অল আউট হওয়ার লজ্জায় ডোবা দলটি চার ইনিংসের একটিতেও পারেনি দুই শ পেরোতে। দুই টেস্টেই হার, প্রথমটিতে ইনিংস ও ২১৯ রানে। পরেরটিতে হার ১৬৬ রানের।

এমন দুঃসহ হারের দগদগে ক্ষত বয়ে বেড়ানো দলটিই কিনা প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রঙিন পোশাক আর সাদা বলের ক্রিকেটে। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ, দুটোই জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। বছরের শেষে ফিরতি সফরে আসা ক্যারবীয়দের বিপক্ষে বদলাও নিয়েছে টেস্ট সিরিজে তাদের হোয়াইটওয়াশ করে। এরপর ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজও জেতায় প্রথমবারের মতো সুযোগ এসেছিল কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে প্রতিপক্ষকে তিন ফরম্যাটেই হারিয়ে ‘ত্রিমুকুট’ জেতারও। ত্রিদেশীয় কিংবা বহুজাতিক আসরে শিরোপা না ছুঁতে পারার মতো এটিও শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যায়। তা থেকে গেলেও ২০১৮-কে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্যের বছর বলাতে বাধা নেই কোনো।

নভেম্বরে সিলেটে জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট হারায় যেমন বাধা নেই বছরটিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অম্লমধুর বলাতেও। সাফল্যের মধ্যেও ব্যর্থতার এ রকম কাঁটাও বিঁধেছে জাতীয় দলের গায়ে। তবে শেষ বিচারে গিয়ে যখন টানতে হয় উপসংহার, তখন এটি সাফল্যের বছরই। যে বছরটি পূর্ণতার শেষ ধাপে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার অপূর্ণতারও।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ বোরহান হাওলাদার(জসিম)

Design & Developed BY ThemesBazar.Com