মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:১১ অপরাহ্ন

বোলিং নিয়ে তবু আশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হয়তো কিছুটা বিরক্ত। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে টেস্ট সিরিজ জয়ের দিনে বিরক্তি প্রকাশ করলে চলে! অধিনায়ক সাকিব আল হাসান হেসেই তাই অস্ফুটে বলেন শুধু, ‘তিন মাস পরের সিরিজ নিয়ে এত বেশি কথা…’

হ্যাঁ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ আসতে এখনো ঢের বাকি। সেই ফেব্রুয়ারি। মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সিরিজ আছে। এরপর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। কিন্তু কিউইদের বিপক্ষে সাদা পোশাকে নেমে পড়ার আগে সর্বশেষ সিরিজ তো গেল ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষেই। আর এ সিরিজের পরিকল্পনাও মাস তিনেক পরের ওই সিরিজের চেয়ে পুরোপুরি আলাদা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করলেও নিউজিল্যান্ড

সফরে টেস্টে কেমন করে বাংলাদেশ, সে কৌতূহল তাই থাকছেই।

বোলিং বিভাগ নিয়েই সবচেয়ে বেশি কৌতূহল; প্রকারান্তরে যা উদ্বেগই বটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ সাজানো হয় স্পিনারদের দিয়ে। টানা দুই টেস্টে খেলানো হয় চার স্পিনার—সাকিব, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানকে। চট্টগ্রামে একাদশে তা-ও পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন; ঢাকায় বাংলাদেশ খেলে পেসারহীন একাদশে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে তো আর সেটি হবে না। ওখানে নির্ভর করতে হবে পেসারদের ওপরই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগের দিনের মতো শেষেও তাই অধিনায়ক সাকিবের অভিন্ন উচ্চারণ, ‘নিউজিল্যান্ডে পেসাররা প্রচুর বোলিং করার সুযোগ পাবে। ওখানে পেসাররাই বেশি বোলিং করবে; স্পিনাররা না।’

কিন্তু টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা তো বরাবরই বিবর্ণ। নিউজিল্যান্ডে সহায়ক কন্ডিশনেও কতটা কী করতে পারবেন, এ নিয়ে সংশয় যথেষ্ট। অধিনায়ক সাকিব অবশ্য আস্থা রাখতে চান গতির বোলারদের ওপর, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের পেস বোলারদের মধ্যে ভালো করার সামর্থ্য রয়েছে। বিশেষত নতুন কিছু পেসার আছে; অল্প কিছু ম্যাচ খেলা আরো কয়েকজন পেসার রয়েছে। ওদের মধ্য থেকে আমরা যদি ভালো সমন্বয় তৈরি করতে পারি এবং ওরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে—তাহলে নিউজিল্যান্ডে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনেরও আস্থার কমতি নেই। তা জানানোর আগে এ দুই টেস্ট সিরিজের পরিকল্পনার পার্থক্যটা জানান তিনি, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলেছি বলেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল স্পিননির্ভর। যদি উপমহাদেশের কোনো দলের বিপক্ষে খেলতাম, তাহলে অমনটা হতো না। আবার ফরম্যাট থেকে ফরম্যাটেও পরিকল্পনার ভিন্নতা আছে। টেস্টে যেমন চার স্পিনার নিয়ে খেলেছি, ওয়ানডে-টি টোয়েন্টিতে কিন্তু তা হবে না।’ নিউজিল্যান্ডে টেস্টে যে পেসাররদের ওপর নির্ভর করতে হবে, তা জানেন তিনি। জোরে বলের বোলাররা হতাশ করবে না বলে বিশ্বাসও করেন, ‘আমাদের তো আট-দশজন পেস বোলারের পুল আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ওরা সেভাবে সুযোগ পায়নি। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে পাবে নিশ্চিতভাবে। আমার বিশ্বাস, সেখানে নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা মেলে ধরতে পারবে ওরা।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের ধবলধোলাইতেও বাংলাদেশের আরেক উদ্বেগ ওপেনিং জুটি। বছরজুড়েই ভোগাচ্ছে তা, ইনজুরির কারণে তামিম ইকবাল ছিটকে যাওয়ার পর আরো বেশি করে। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ইমরুল-সৌম্যর জুটি দুই ইনিংসে টেকে ১ রান এবং ১৩ রান। ইমরুলকে বাদ দিয়ে সাদমান ইসলামের অভিষেক করানো হয় দ্বিতীয় টেস্টে। সৌম্য-সাদমানের জুটি একমাত্র ইনিংসে ৪২ রানের। অভিষেকে ১৯৯ বলে ৭৬ রান করা সাদমানে ওপেনিং সমস্যার সমাধান দেখছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজে তামিম চলে আসবে। আর সাদমানও তো দেখিয়েছে, ও টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করতে পারে। টেস্টের ওপেনিং নিয়ে অনেক দিন ধরে যে সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা, তা আশা করি কেটে যাবে।’

আশার সেই চাহিদাপত্রে নিউজল্যান্ডে ভালো করাটা থাকছে সবার আগে। বিশেষত অতীতের বাজে রেকর্ডের কারণে। ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করার পর সেটিই জানিয়ে দিচ্ছিলেন অধিনায়ক সাকিব, ‘নিউজিল্যান্ডে আমাদের জন্য অবশ্যই কঠিন হবে। ওখানে গিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ আমরা ড্রও তো করতে পারিনি; জেতা দূরের কথা। আমরা তাই এবারের সফরে চেষ্টা করব, মনে রাখার মতো কিছু করার। অবশ্যই আমরা প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য খেলব। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের জন্য খুব কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে আছে। টেস্টে যদি কোনো ম্যাচ ড্রও করতে পারি, সেটাও বড় পাওয়া হবে।’

অধিনায়কের এ প্রত্যাশাই জানিয়ে দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড সফরের তিনটি টেস্ট কত কঠিন হবে। সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট জেতা সত্ত্বেও।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com