মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

নেতা জিয়াসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নেতা জিয়াসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

অবশেষে বহুল আলোচিত প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপন হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সামরিক শাখার প্রধান ও বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে জিয়াসহ ৮ জঙ্গিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় তদন্তের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান।

ডিবি সূত্র জানায়, এর আগে জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার দীপন হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করে ৩০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পর গতকাল এটি দাখিল করা হলো। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, দীপন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জঙ্গিনেতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, বহুল আলোচিত ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন- জঙ্গি সংগঠন এবিটির শীর্ষনেতা চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আব্দুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, শেখ আব্দুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আব্দুল্লাহ।

এদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন এখনো পলাতক আছেন। বাকি ৬ জন অভিযুক্ত আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। পরে আগামী ১৮ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন বিচারক। এ হত্যা মামলার চার্জশিট দিতে দেরির কারণ দেখিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করায় ও কোনো সূত্র না থাকায় (ক্লুলেস) তদন্তে লম্বা সময় লেগেছে।

সূত্র জানায়, চার্জশিটে ১১ আসামিকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তারা হলেন আরাফাত রহমান, সেলিম ওরফে হাদী, আলম, আকাশ, তৈয়ব, জনি, আসাদ, হাসান, তালহা, শরিফুল ও তারেক। এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়া ও ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে ৩০ অক্টোবর কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিএমপি কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জঙ্গি গোষ্ঠীর সামরিক কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা জিয়ার পরিকল্পনা ও নির্দেশেই প্রকাশ দীপন হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার মইনুল হাসান শামীমের জবানিতেও উঠে এসেছিল এই জিয়ার নাম।

তিনি আরো জানিয়েছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডে নয়জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও আটজনকে অভিযুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলে তা আদালতে জমা দেয়া হবে। পলাতক নবম জঙ্গির নাম-ঠিকানা পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিটে দেয়া হব।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওইদিন রাতেই দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। এর কিছ দিন আগে ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলা চলার সময় টিএসসিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মুক্তমনা লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়কে। এরপর কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রকাশক দীপনসহ আরো কয়েক লেখক-ব্লগারকে হত্যা করে ধর্মীয় উগ্রপন্থি জঙ্গিরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com