মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১১:০১ অপরাহ্ন

গলাচিপা দশমিনা পটুয়াখালী মনোনয়ন প্রত্যাশী

গলাচিপা দশমিনা পটুয়াখালী মনোনয়ন প্রত্যাশী

গলাচিপা-দশমিনা
পটুয়াখালী (৩) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগে একাধিক
ও বিএনপি’র ৩ মনোনয়ন প্রত্যাশী

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বড় দুই দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুই দলের বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মরিয়া হয়ে উঠছে। অপরদিকে বিএনপির তিন প্রার্থীর সমর্থকরা মাঠে কাজ করছে। পটুয়াখালী জেলার বৃহত্তর গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত ১১৩,পটুয়াখালী-৩ সংসদীয় আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। রাজনীতিতে এবং বৃহত্তর দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মরিয়া হয়ে উঠছে। এই সংসদীয় আসনটি দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এর নির্ধারিত আসন হিসেবে চিহ্নিত এবং তাদের দখলে রয়েছে। অন্যদিকে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবী নিয়ে বিএনপি চাইছে এই আসনটি দখলে নিতে। আসন্ন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী ও বিএনপি’র মনোনয়ন পেতে তিন জন মরিয়া হয়ে ছুটছেন।
এদের মধ্যে পটুয়াখালী-৩ সংসদীয় আসনে বর্তমান এমপি আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন। এই আসনে তিনি চারবার সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গলাচিপা-দশমিনা এলাকায় তার হাত ধরে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ করেছে। দলকে সাংগঠনিক ভাবে রেখেছেন সমুন্নত। তার সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কুড়িয়েছেন প্রশংসা। তিনি ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট পাকা করণ, স্কুল কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইক্লোন সেল্টার, পুল, কালভার্ট নির্মাণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সেবা, কমিউনিটি ক্লিনিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সহ নানা দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণে তার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া দুই উপজেলায় মানুষের নিরাপত্তা, চাঁদাবাজী বন্ধ ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের নির্দেশ ছিল কঠোর অবস্থান। এছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন জরিপে এবং পত্র পত্রিকায় বর্তমান এমপির নাম বার বার উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইসলামিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী নাগরিকদের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এর পক্ষে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। দলের সাংগঠনিক তৎপরতা ও সমর্থন রয়েছে ব্যাপক। গলাচিপা উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের কতিপয় নির্বাচিত সদস্য সহ অধিকাংশ ইউপি সদস্য-সদস্যারা আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এমপি’র স্বপক্ষে রয়েছেন এবং তিনি তৃনমূলের ভোটে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন পাবে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা অভিমত দিয়েছেন।
অপরদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে গলাচিপা-দশমিনার বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তার মধ্যে দশমিনা উপজেলায় কৃষকদের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বীজ উৎপাদন কেন্দ্র, উলানিয়া – রনগোপালদী ব্রীজ নির্মাণ ও গ্রামীন মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট নির্মাণ সহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করেছেন। দুই উপজেলার আওয়ামী লীগের সমর্থিত বেশ কিছু নেতা কর্মী ও গরীব সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং নির্বাচন করতে আগ্রহী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক কামরান শাহীদ প্রিন্স মহব্বত। এলাকায় তিনি দানবীর নামে পরিচিত। তিনি ইতিপূর্বে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, পুল মেরামত, রাস্তা, আবাসন-আশ্রায়নের গরীব মানুষের ত্রান সামগ্রী ও কোরবানী ঈদে বেশ কয়েকটি গরু দান করে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
এছাড়া দশমিনার কৃতি সন্তান ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এ্যাডভোকেট ও বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য জনাব এ্যাডভোকেট মো: ফোরকান মিয়া গলাচিপা-দশমিনা নির্বাচনী এলাকা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী একজন প্রার্থী। তিনি দশমিনা আলীপুরা কলেজের ১০ বছর যাবৎ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষকদের বেতন ও গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার খরচ দিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।
গলাচিপা-দশমিনা আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে দশমিনার কৃতি সন্তান ও গলাচিপা হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র আওয়ামী লীগ সমর্থিত কমী এস এম শাহাজাদা ইতিমধ্যে দুই উপজেলায় পোষ্টার, ব্যানার, হাটে বাজারে নৌকার সমর্থনে গনসংযোগ এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিগত ১০ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, জাতীয় শোক দিবস পালন সহ শেখ হাসিনার দক্ষিনাঞ্চলের নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বর্তমানে তার সমর্থনে গলাচিপা উপজেলার বেশ কিছু অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা তার সমর্থনে কাছ করছেন।
মনোনয়ের ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক সন্তোষ কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফা টিটো ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সর্দার মো: শাহআলম বলেন, বড় দলে মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে গলাচিপা-দশমিনা নির্বাচনী আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন তৃনমুল থেকে দলের সিদ্ধান্ত পাবেন এবং তিনি নৌকা মার্কার মনোনয়ন পেয়ে এই আসনে তাকে পুনঃনির্বাচিত করা হবে।

আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও জনগণের কাছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী পোষ্টার, ব্যানার, লিফলেট নিয়ে পরিচিতি লাভ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশ্লেষণে জানা যায়, ভেঙ্গে পড়া বিএনপি কে নতুনভাবে সাজাতে এবং সাংগঠনিক ভাবে উপজেলা বি এন পি কে দৃঢ় অবস্থান করতে নানা রকম পরিকল্পনা এবং সেই মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও গলাচিপা-দশমিনা দুই উপজেলার ইতিমধ্যে বি এন পি’র উপজেলা কমিটি নিয়ে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে কমিটি নিয়ে বিরোধ চরম পর্যায় ধারণ করেছে। গলাচিপা দশমিনা প্রার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক ভাবে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ও গলাচিপা বিএনপি’র এক অংশের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাবেক এমপি শাহজাহান খান সাংগঠনিক ভাবে দলের সংগঠক হিসেবে নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। আওয়ামী লীগের শক্তির বিপক্ষে তার সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকল্প কোনো নেতা এই জনপদে তেমন ভূমিকা পালন করতে পারে নাই। এছাড়া তার রয়েছে ব্যাপক দলীয় ও জন সমর্থন।
বিএনপির অন্য এক মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রনেতা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দশমিনার কৃতি সন্তান হাসান মামুন গলাচিপা-দশমিনা জনপদের ২০ দলীয় ঐক্যজোট ও বিএনপি সমর্থিত যুবকদের কাছে হাসান মামুনের পরিচিতি ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। শিক্ষিত, সদালাপী, সুবক্তা ও সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা দুই উপজেলায় ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। এছাড়াও তরুন বেকারদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তিনি মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সাথে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং দলের বিরোধ মিটে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা ও গলাচিপা উপজেলার কৃতি সন্তান ও ভদ্র ও নিরীহ মানুষ হিসেবে পরিচিত, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা বিএনপির মনোনয়ন লাভের আশায় মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী গ্রুপের নেতা হিসেবে এলাকায় দলের হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও গলাচিপা উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বা সরকারের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি মোতাবেক কোনরকম আন্দোলন সংগ্রামে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তাকে নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে নেতা কর্মীদের গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, দশমিনার আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আজিজ মিয়া, দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শওকত, এ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন লিটন, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মো: তসলিম সিকদার ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন ও ১৪ দলের শরীক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর গলাচিপা উপজেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন তালুকদার মনোনয়নের দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে এই দুই উপজেলার বৃহত্তর দুই দলের মনোনয়ন কে পাবে তা নিয়ে হাটে-বাজারে, চায়ের দোকানে এবং বিভিন্ন আড্ডায় উল্লেখিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎকন্ঠা, উদ্বিগ্ন, আলোচনা ও খবরাখবর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




https://www.facebook.com/
Design & Developed BY ThemesBazar.Com