বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:০৭ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটায় মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ

সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটায় মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ

মামুন হোসেন সাতক্ষীরা থেকেঃসাতক্ষীরা পাটকেলঘাটায় মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। পাটকেলঘাটার শাকদাহ, তৈলকূপি, বাইগুনি, মিঠাবাড়ি, নগরঘাটা, আসাননগর, ভৈরবনগর, কাপাশডাঙ্গা, বড়বিলা, সরুলিয়া, সারসাসহ আশেপাশে এলাকার মাছের ঘেরগুলোতে যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন ঘের মালিকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেক ঘেরের বেড়িতে ঝুলছে কুমড়া, লাউ, ঝিঙে, বরবটি, উচ্ছে, ঢেঁড়শ, খিরায়, পুইশাকসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি। বিশেষ করে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের দু’পাশের ঘেরের বেড়িগুলো দেখলে মনে হবে সবজি চাষে সবুজ বিল্পব ঘটেছে। এসব এলাকার ঘের মালিকরা ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত করছে। এর ফলে দেশের কাঁচামালের ঘাটতি অনেকটা পূরণ হচ্ছে। এতে এক দিকে যেমন তারা নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, তেমনি ঘটছে সবুজ বিপ্লব। এসব সবজি বিক্রি করার জন্য কৃষকদের এখন আর পরিবহনে করে বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে না। পাইকাররা ঘেরে এসেই টাটকা সবজি ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে ঘের মালিকদের সময় ও পরিবহন খরচ যেমন হ্রাস পাচ্ছে তেমনি পাশাপাশি কিছু বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে।
মিঠাবাড়ী গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও আমজাদ হোসেন জানান, পাটকেলঘাটার ভৈরবনগর মোড় থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন ঘের চাষীর কাছ থেকে দেড়-দু’শ ক্যারেট সবজি ক্রয় করি। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে সাত-আটশ পিচ কুমড়া, আট-নয়শ পিচ লাউ, দুই-তিনশ কেজি শশা, দুই-আড়াইশ কেজি করল্লা, ঝিঙে ও ঢেড়স। এসব সবজি পটুয়খালী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, ও চট্টগ্রামে বাজারজাত করা হয়।
পাটকেলঘাটা শাকদাহ গ্রামের মাছ চাষি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি গত দু’বছর ধরে শাকদাহ বিলে ২৫ বিঘার একটি ঘেরে মাছের পাশাপাশি বেড়িতে নানা ধরনের সবজি চাষ করছেন। বছরে তিনি লক্ষাধিক টাকার সবজি বিক্রি করেন। তিনি আরো বলেন, তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় ঘেরে মাছ চাষে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ঘেরে মাছে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ ঘের মালিকরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষ করায় কিছুটা লাভের মুখ দেখছে ঘের মালিকরা।
মিঠবাড়ী গ্রামের ঘের চাষী আবুল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন মাছ চাষ করেন, মাছে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় লাভবান হতে না পারলেও উপজেলা কৃষি কর্মকতার পরামর্শে ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখছি। এক বিঘা জমির মৎস্য ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষ করতে খরচ হয় প্রায় তিন হাজার টাকা। কিন্তু শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন এই তিন মাসে একটি এক বিঘা ঘেরের বেড়িত সবজি চাষ করে ৫০-৬০ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন করা যায়।
এ বিষয়ে তালা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্য ঘেরে সবজি চাষ করে চাষীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ঘেরের লিজের টাকাও পরিশোধ করতে পারছেন। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে তেমন বেশি খরচ হয় না। ফলে সবাই সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com