বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
লাইনম্যান নয় চাঁদা তোলে পুলিশ ঢাকার ফার্মগেট ফুটপাত

লাইনম্যান নয় চাঁদা তোলে পুলিশ ঢাকার ফার্মগেট ফুটপাত

ফার্মগেট সেজান পয়েন্ট থেকে ফার্মভিউ সুপার মার্কেট পর্যন্ত একজন, সেখান থেকে বাটাবাজার পর্যন্ত আরেকজন এবং বাটাবাজার তেকে বড়বাজার পর্যন্ত আরেকজন পুলিশ কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের একসঙ্গে থেকেই দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে করার কারণ হলো উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে নজর রাখা। কোন কর্মকর্তা কোন দিক থেকে আসে বলা যায়না। কেউ এলইে বাশি ফুঁ দিয়ে জানান দেয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাতের হকারদের ওপর নির্যাতন চালানো শুরু। স্বাভাবিকভাবে হকাররা তাদের পন্য বিক্রি করলেও বাঁশি বাজার পর থেকে চিত্র পাল্টে যায়। দ্রæত মালামাল নিয়ে সটকে পড়ে হকাররা। আর কমমুল্যের পন্য ফেলে স্থান ত্যাগ করে অনেকে। পুলিশের বড় কর্তারা এলেই এ দৃশ্য চোখে পড়বে প্রতিদিন।

এদিকে ফার্মগেটসহ রাজধানীর সকল ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কিছু এলাকায় ফুটপাত থাকলেও তা নির্দিষ্ট সময় বসার কথা। এছাড়া শুক্রবার হলিডে মার্কেট চালু রয়েছে বেশকিছু এলাকায়। তবে ফার্মগেটের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে আগের মত কোন লাইনম্যান নেই। নির্দিষ্ট হারে হকারদের কাছ থেকে টাকাও তোলেনা কেউ। তবে প্রতিদিন দোকান বসানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয় পুলিশকে। বক্সের ইনচার্জ, ফাঁড়ির ইনচার্জ, টহল পুলিশকে নিয়মিত টাকা দিয়ে ফুটপাতে পণ্যের পসরা নিয়ে বসে যায় হকাররা।

স্থানীয় হকাররা জানান, লাইনম্যান না থাকলেও কতিপয় পুলিশকে ম্যানেজ করে চলে ফার্মগেটের ফুটপাতের ব্যবসা। পুলিশের টাকা তোলে জসিম নামের এক হকার। ফুট ওভার ব্রীজের উপর কোন দোকান বসানোর নিয়ম নেই। কিন্তু জসিমের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় অনায়াসেই বসানো হয়েছে দোকান। সাধারন মানুষের চলাচলে বিঘœ ঘটলেও সেদিকে খেয়াল নেই পুলিশের।

একাধিক হকার জানান, ফার্মগেট পুলিশ বক্সের ইনচার্জ ও ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রতি সপ্তাহে মোটা অংকের টাকা নেন ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। পাশাপাশি প্রতিদিন টাকা দিতে হয় টহলে আসা পুলিশদের। দোকান প্রতি ১শ’ থেকে ৩ শ’ টাকা দিতে হয় তাদের। এর আগে লাইনম্যানদের মাধ্যমে টাকা তোলা হতো। এখন আগের মত লাইন নেই ম্যানও নেই। তবে নতুন করে যোগ হয়েছে ফুটপাত থেকে পুলিশের সরাসরি টাকা নেওয়ার বিষয়টি।  ফার্মগেটে বর্তমানে এক থেকে দেড়শ’ ফুটপাতের দোকান রয়েছে। সকালের দিকে দোকান কিছুটা কম থাকলেও বিকেলের দিকে বাড়তে থাকে দোকান। টাকা তোলা হয় বিকেলেই। সন্ধ্যার পর আবার নতুন করে লাইন বসে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফার্মভিউ সুপার মার্কেট বন্ধ হয়ে গেলে মার্কেটের সামনে ও আশপাশে দোকানের পসরার কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটাই দায় হয়ে পড়ে পথচারীদের।

স্থানীয় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ফার্মগেটে কোন লাইন নেই ফুটপাতের দোকানের। তবে বিচ্ছিন্নভাবে পুলিশকে ম্যানেজ করে দোকান বসানো হয়। নিন্ম আয়ের মানুষেরা পুলিশকে ম্যানেজ করতে পারলে তাদের সমস্যা কোথায়। তবে অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতারা এসব ফুটপাত থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে থাকেন। তবে স্থানীয় হকাররা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com