বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
১১টি ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

১১টি ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

ঢাকার মানুষকে যানজট নামের ‘যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি দিতে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি ইউটার্ন প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক। সাতরাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত সড়কের ডিএনসিসি পরিকল্পিত সম্ভাব্য ১১টি ইউলুপ নির্মাণের স্থান নির্ধারিত ছিল সাতরাস্তা, মহাখালী বাসটার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনালের নিচে, চেয়ারম্যান বাড়ি, কাকলী, বনানী আর্মি গলফ ক্লাব, উত্তরা ও খিলক্ষেতের মাঝামাঝি কাওলা, র‌্যাব-১ অফিসের সামনে, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের জসীমউদদীন রোড ও আবদুল্লাহপুরে। সে অনুযায়ী লেন বদল করতে রাস্তাতেই গাড়ি ঘোরানোর জন্য ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় উত্তর সিটি কর্পোরেশন। ২০১৫ সালে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের জুনে। দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। দফায় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির পরও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় এ প্রকল্পের কাজ আটকে আছে। তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১১টি ইউটার্নের মধ্যে ছয়টির ভূমি ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা ছিল ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে। প্রকল্পের শুরুতে জমি দিতে আপত্তি না করলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আপত্তির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিঘœ ঘটায় তেজগাঁও নাবিস্কো ও সাতরাস্তায় কাজে হাতই দেয়া হয়নি। অর্থাৎ দুই মেয়াদে সাইনবোর্ডেই আটকে আছে প্রকল্প- এই খবর দৈনিক মানববণ্ঠের। প্রাথমিকভাবে পুরো প্রকল্পের ব্যয় ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ধরা হয়। এর মধ্যে ১৯ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকার, বাকি চার কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা ডিএনসিসি’র দেয়ার কথা। দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির পর চলতি বছরের জুনের মধ্যে এসব ইউলুপ দৃশ্যমান হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের জমি সংক্রান্ত জটিলতায় তা আটকে যায় বলে মানবকণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ডিএনসিসির দরকার ২৩ একর জমি। এ ২৩ একর জমির মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ১ দশমিক ৩৬ একর, বাংলাদেশ রেলওয়ের দশমিক ২২ একর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের দশমিক শূন্য নয় একর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দশমিক শূন্য ছয় একর জমি ব্যবহারের প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে ইউটার্নগুলো নির্মাণ হলে ঢাকার সামগ্রিক যানজট ২৫-৩০ শতাংশ কমে যাবার কথা বলা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন নির্মাণ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ভাঙতে হতে পারে এই ইউলুপগুলো। কারণ শেষ পর্যন্ত এটা হবে শুধুই অর্থের অপচয়। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনুমোদন পেতেই লেগে যায় দুই বছরের বেশি। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। আমরা প্রত্যাশা করি জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই আবারো শুরু হবে ইউলুপ প্রকল্পের কাজ এবং তা অর্থের অপচয় না হয়ে জনকল্যাণে যানজট নিরসনের উদ্যোগকে সফল করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com