রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০৩ অপরাহ্ন

প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ান

প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ান

দূর পরবাসে যারা জীবন ও জীবিকার জন্য কাজ করেন তাদের পাঠানো অর্থে শুধু ব্যক্তির পরিবার-পরিজনই ভালো থাকে না। দেশীয় অর্থনীতিতে এর অবদান অসামান্য। কিন্তু নানা দেশে আমাদের দেশের যেসব ভাই থাকেন তারা নানা সময়, নানা সংকটে পড়েন। এটা অনেক সময় নিজেদের ভুলে আবার অজ্ঞতার কারণেও। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অবৈধভাবে কিংবা স্বীকৃত এজেন্সি অথবা অচেনা কোনো দালালের মাধ্যমে বিদেশ গমনে সতর্ক করে দেয়া হলেও অনেকেই তা মেনে চলেন না। পরবর্তীতে প্রবাসে গিয়ে নানা সংকটে পতিত হন। তবে কারণ যাই থাকুক না কেন এদের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এটিই প্রত্যাশিত। মালয়েশিয়া এমন একটি দেশ, যে দেশে কম খরচে এবং কম সময়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিয়োগ সঙ্কুচিত থাকায় মালয়েশিয়াই একমাত্র দেশ যেখানে প্রক্রিয়াটি চলমান। ফলে সরকার নির্ধারিত ফি ধার্য করে দেয়া হলেও দালাল বা এজেন্সিকে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও অনেকে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। তবে বিপদে পড়ছেন তারা যারা সরকারি সব নিয়ম-কানুন না মেনে দালালদের মাধ্যমে সেখানে উপস্থিত হচ্ছেন বা যাদের পাসপোর্ট বা ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সে দেশের সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই তারা বিপদে পড়ছেন। তবে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ করার বিষয়ে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী। গৃহীত পদক্ষেপের আওতায় বৈধ হওয়ার জন্য রিহায়ারিং কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধনকারী কর্মী/শ্রমিকদের ভিসা প্রাপ্তির কার্যক্রম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। যার মাধ্যমে তারা ভিসা গ্রহণ করে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন।
শুধু মালয়েশিয়া নয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিদেশ গমনেচ্ছুরা অবৈধ উপায়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। এতে তাদের লক্ষ্য পূরণ তো হয়-ই না উল্টো পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য সংকট সৃষ্টি করেন। নিজেও বিপদে পড়েন। এ জন্য অবশ্যই সরকার নির্দেশিত পথে বিদেশ গমন করাটা জরুরি। এছাড়া একটি দেশ সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে সে দেশে গমন করাটা নিজের বিপদ নিজেরই ডেকে আনা। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে মালয়েশিয়া সফরকালে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার জন্য সে দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ জানান এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘রিহায়ারিং প্রোগ্রাম’ চালু করে। রিহায়ারিং কর্মসূচিতে রেজিস্ট্রেশনসহ ব্যবস্থাপনার জন্য মালয়েশিয়ার যে ৩টি ভেন্ডার কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এর যে কোনো একটি কোম্পানিতে গিয়ে নাম রেজিস্ট্রেশন করে বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে তা প্রশংসাযোগ্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির বিপরীতে প্রবাসে শ্রম বিক্রির অন্য কোনো বিকল্প নেই। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমিকদের চাহিদাও রয়েছে। একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদেশ গমন ও প্রেরণ নিশ্চিত করা হলে ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র সব খাতেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এ ক্ষেত্রে যারা বিদেশ গমন করছেন সরকারি সার্বিক সহায়তার পাশাপাশি তাদেরও সতর্ক ও যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে বলে মনে করি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com