বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
গলাচিপা উৎসব উদ্দীপনায় ২ দিন ব্যাপী আয়কর মেলা উদ্বোধন শার্শায় একটি বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগজিনসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে দেশের প্রথম হানাদার মুক্ত দিবস পালিত সাতক্ষীরার ৪টি আসনে বিএনপির মনোয়ন ফরম কিনেছেন ১৬ জন ভাবনায় খুঁজে যাই যাকে !!! বেনাপোল সীমান্ত থেকে দুটি ইয়াবার চালানসহ দুই মাদক ব্যাবসায়িকে আটক করেছে বিজিবি। হামলা মামলা আর প্রান নাশের ভয় মনের মাঝে পুশে রেখে সাংবাদিকতা পেশায় আসিনি। বরাবর-মাননীয় প্রধান মন্তী/আইন বিভাগ/শাসন বিভাগ/বিচার বিভাগ ও মাননীয় সরকারের সাহায্যকারী বন্ধু তুমি একটু দাড়াও জেলা-কুমিল্লা, থানা-দেবিদ্বার, গ্রাম ও পোঃ ধানমতীস্থিত
শহীদুলকে দুষছেন না জেমি ডে

শহীদুলকে দুষছেন না জেমি ডে

সেই গোল : প্রথম দুটি ম্যাচে জয়, শেষ ম্যাচটা শুধু হার ঠেকালেই হয়। এই যখন সমীকরণ, তখন নিজেদের মাঠে গোলরক্ষকের হাস্যকর ভুলে গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। বিমল ঘারতি মাগারের নেওয়া ফ্রি কিকটা ভুল করে নিজেদের জালে ঢুকিয়ে দেন গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। পিছিয়ে পড়া হতোদ্যম বাংলাদেশ দল শেষ মুহূর্তে হজম করেছে আরো একটি গোল। তবে বিমলের গোলেই আসলে নিজের ঘরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দর্শক বনে গেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের দুটি জিতেও মাত্র একটিতে হেরে আবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। এমন হারের পর প্রশ্ন উঠছে গোলরক্ষক হিসেবে শহিদুলকে একাদশে সুযোগ দেওয়ার যথার্থতা নিয়েও। ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এদিন নেপাল তাদের ডিফেন্সিভ সামর্থ্যের প্রমাণ রাখছিল। বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেদের আক্রমণভাগের সামর্থ্য জানান দেওয়ার। ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ঠিক পরীক্ষা হয়নি তাদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল করার চেয়ে প্রতিপক্ষকে রুখে দেওয়াটাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।

কাল নেপাল যেহেতু খেলার জায়গা দিচ্ছিল তাদের। সেখান থেকে সাদ, সুফিল, বিপলুদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেখাতে হতো। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে গোলের চেষ্টায় দলটা যেমন অভ্যস্ত, তা থেকে তাই বেরিয়ে আসতে হতো এদিন। গোলরক্ষক শহীদুল আলমের ভুলে পিছিয়ে পড়ার পর তো সেই তাগিদ ছিল আরো। কিন্তু তার হচ্ছিল না কিছুই। কিন্তু নেপালি ফরোয়ার্ড লাইন বিমল ঘারতি, সুনীল বল, ভারত খাওয়াজদের মধ্যে যে বোঝাপড়া সেটা কোথায় পাবেন তিনি। কাউন্টার অ্যাটাক ছাড়া আক্রমণভাগ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মনে হলো না।

ফুটবলে নতুন দিনের রব তুলে যে দর্শকরা কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মাতিয়ে রেখেছিলেন, সকাল থেকে ব্ল্যাকে টিকিট কাটা নিয়ে যা অস্থিরতা, তা একেবারেই চুপ মেরে গেল বাংলাদেশি ফুটবলারদের গোল করতে না পারার ব্যর্থতায়। ভরা গ্যালারির নিস্তব্ধতা কতটা অসহনীয় এদিন তা টের পেলেন ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষে হতাশা ভেঙে পড়া খেলোয়াড়দের নিয়ে যখন মাঠের মাঝখানে ব্রিফ করছেন জেমি ডে, নেপাল দল তখন পুরো স্টেডিয়াম ঘুরে ভিক্টোরি ল্যাপ দিচ্ছে। ভাঙা বুকে বাড়ি ফেরার আগে স্বাগতিক দর্শকরা তাদের অভিনন্দন জানিয়ে গেলেন। ম্যাচের মাঝখানে তারা বোতল ছুড়েছেন মাঠে, ভুয়া ভুয়া বলে চিত্কার করেছেন। তা রেফারির কোনো সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে নাকি বাংলাদেশ দলের ম্লান পারফরম্যান্সে, তা অবশ্য বোঝা যায়নি। ম্যাচ শেষে এই দর্শকদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস ছিল না তপু, শহীদুলদের। জেমি ডে-ই তাঁদের ডেকে এনে গ্যালারির সামনে নিলেন। দর্শকদের হাততালি কিছু বরাদ্দ ছিল তাঁদের জন্যও। হবেই না কেন। এই দলটা যে আগের দুটি ম্যাচ বুক চিতিয়ে লড়েছে। দুটি দল ২ ম্যাচ জিতেই সেমিফাইনালে উঠে গেল, স্বাগতিক তাদেরও আগে ৬ পয়েন্ট তুলে শেষ পর্যন্ত কিনা কাটা পড়ল গোল ব্যবধানে।

তবে এই সমীকরণে আসলে সান্ত্বনা জোটে না, নেপালের বিপক্ষে ২-০ গোলের ওই হারের পর। আফগানিস্তান সাফে ঢোকার পরের তিন আসরেই বাংলাদেশ শেষ চারের দেখা পায়নি। তাতে আসলে আফগানদেরও কোনো প্রভাব ছিল না। ২০১১-তে এই নেপাল আর মালদ্বীপের কাছে হেরেই বাংলাদেশ বিদায় নেয়, ’১৩-তেও হার নেপাল আর পাকিস্তানের কাছে। কাল ঘরের মাঠেও সেই নেপালিদের কাছে হেরে লাল-সবুজের বিদায় ফুটবলে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থানটাই আবার বুঝিয়ে দেয়। সেখান থেকে উত্তরণ যে এখনো হয়নি, বুক চিতিয়ে লড়াই-ই যে সমাধান নয়, তার জন্য চাই গুণগত পরিবর্তন, নেপালিরাই তো তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আবার। ম্যাচ শেষে দলের সহকারী কোচ কিরণ শ্রেষ্ঠাও বললেন তিনি অভিভূত দলের এই পারফরম্যান্সে, ‘এই দর্শকদের মধ্যে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সত্যিই কঠিন ছিল। কিন্তু খেলোয়াড়রা তাদের নার্ভ ধরে রেখে সত্যিকার পারফরম্যান্সটাই উপহার দিয়েছে।’ ভাগ্যেরও সহায়তা পেয়েছে তারা। শহীদুলের ভুলে পাওয়া গোলটা তো তাদের জন্য ওপর থেকেই নাজেল করা। এই শহীদুল নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও অমার্জনীয় ভুল করেছিলেন। তবু এশিয়াডের দলে থাকা আশরাফুল ইসলাম রানার বদলে তাঁকে সাফের তিন ম্যাচেই নামিয়ে দেওয়া কোচের সাহসী সিদ্ধান্ত। শেষ পর্যন্তও সেই সিদ্ধান্তে সমর্থন করে গেছেন ডে, ‘শহীদুল পাকিস্তানের বিপক্ষেই অসাধারণ সেভ করেছে। তার কারণেই শেষ মুহূর্তে গোলটা দিয়ে আমরা ম্যাচ জিততে পেরেছিলাম।’ পাকিস্তান ম্যাচের তিনি পুরস্কার পেতেই পারেন, নীলফামারী ম্যাচের ভুলের মাসুলও তার গোনা উচিত ছিল। দ্বিতীয়বার নইলে একই রকম ভুল করেন কী করে তাহলে।

জেমির দলের আক্রমণভাগের খেলায় যে পরিকল্পনা ছিল না, সংবাদ সম্মেলনে তা-ও স্মরণ করিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত তিনি ‘প্রতিভার ঘাটতি’-কেই সামনে তুলে এনেছেন। র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই ঘাটতি বা পরিকল্পনাহীনতা ধরা পড়েনি, সাধারণ মানের ভুটানের বিপক্ষেও থেকেছে আড়ালে থেকেছে। যাদেরকে সমশক্তির ধরা হয় বেশির ভাগ সময়, সেই নেপালিরাই তা বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com