সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
ঢাকা ময়মনসিংহ রোড ও গাজীপুর টাঙ্গাইল রোডে আবাসিক হোটেলে চলছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রমরমা দেহ ব্যবসা। আশুলিয়া থানা যুবলীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল তসবির মহরের অশ্লীল পোস্টারে সয়লাব যশোর জামালপুরে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরার বাবুলিয়ার ত্রাস সাদেক গাজী আটক ঈদ-উল আযহা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত যশোর দাকোপের চালনায় শ্রীশ্রী অনুকুলচন্দের ১৩১ তম আর্বিভাব মাসভাদ্রমাস ব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন বেনাপোলে৩০লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ীর চালান আটক করেছে বিজিবি। শ্রীপুরে শির্ষ্য মাদক ইয়াবা ব্যাবসায়ি পিচ্চি রাজিব । সন্তানদের স্বাভাবিক জীবন চান কাজল
বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় আ.লীগের কিছু কুচক্রীও: আইনমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় আ.লীগের কিছু কুচক্রীও: আইনমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ভেতরের একটি কুচক্রী মহলও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় জড়িত ছিল বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। কুচক্রীদের বিষয়ে এখনও সতর্ক থাকা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আইনজীবী বর্তমানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল একাত্তরের পরাজিত গোষ্ঠী রাজাকার, আল বদরেরা। কিন্তু সেটা কি ঠিক? ইতিহাস কিন্তু তা বলে না। ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল এই আওয়ামী লীগেরই কিছু কুচক্রী নেতা। তার মানে মীর জাফর আমাদের মধ্যে ছিল।’

‘সেই মীর জাফর যদি আমাদের মধ্যে না থাকতো তাহলে একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুর গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পেতো।’

বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ দিতে হয়েছে দেশের স্বাধীনতার চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে। কেবল তাকে নয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তান আমলে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনে কেন্দ্র হয়ে উঠা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা করে জাতির জনকের পুরো পরিবারকেই নিশ্চিহ্ন করে দেয় সেনাবাহিনীর বিপথগামী একটি অংশ।

কেবল বাবা-মা, ভাই, ভাতৃবধূকে নয়, চাচাসহ বেশ কয়েকজন স্বজনকেও হারান শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান।

এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন আওয়ামী লীগেরই ষড়যন্ত্রকারী নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যার নাম ঘৃণিত হয়ে উঠে পরবর্তীতে। এরপর দৃশ্যপটে আসেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনি খুনিদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির পাশাপাশি খুনি সেনা কর্মকর্তাদেরকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত করে পাঠান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর এই হত্যার বিচার শুরু হয় যাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তার বাবা সিরাজুল হক। সিরাজুল এই মামলার ব্যবহার হওয়া বহু নথিপত্র ১৯৭৫ সালের পর থেকেই নিজে যোগাড় করে রেখেছিলেন আর পিতাপুত্র একটি টাকাও নেননি মামলা করতে।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু হত্যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বেশ কিছু ‘প্রমাণ’ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুঃখ, জিয়ার বিচারটা করতে পারলাম না, আগেই মরে গেল সে।’

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় কেবল খুনিদের বিচার হলেও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়টি উঠে আসেনি বলে আক্ষেপের রয়েছে। এমনকি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাও এই প্রসঙ্গটি তুলেছেন একাধিকবার।

ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও রয়ে গেছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। তাদেরকে নস্যাত করতে আর উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেয়ারও আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।

আয়োজক সংগঠনের পরিষদের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নূর তাপসের সঞ্চালনা এবং পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারয়ার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, আব্দুল বাসেত মজুমদার, নজিবুল্লাহ হিরু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




https://www.facebook.com/
Design & Developed BY ThemesBazar.Com