রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১১:০৭ অপরাহ্ন

দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন
চট্টগ্রামের হালিশহরের পর এইবার আগ্রাবাদসহ আশেপাশের এলাকায়ও জন্ডিসসহ পানিবাহিত রোগ ছড়াইয়া পড়ার খবর পাওয়া গিয়াছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নূতন করিয়া আক্রান্ত এলাকাগুলির মধ্যে আবিদরপাড়া, ছোটপুল, বড়পুল, বলিরপাড়া, ইসলামিয়া ব্রিকফিল্ড, বেপারীপাড়া ও হালিশহরের আই ব্লক প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এইসকল এলাকায় বহু লোক হেপাটাইটিস-ই ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হইতেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, হালিশহর এলাকায় মাসাধিককাল যাবত্ জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যাইতেছে। জানা যায়, শুধু গত এপ্রিল মাসেই এই এলাকার প্রায় তিন শত বাসিন্দা একসাথে জন্ডিসে আক্রান্ত হইয়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা গ্রহণ করিয়াছেন। ইহার পর রোগটি দ্রুত ছড়াইয়া পড়ে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১ মে হইতে গত শুক্রবার পর্যন্ত যেখানে জন্ডিসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬২৪, সেখানে মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে তাহা ৭৪৯-এ উন্নীত হইয়াছে। অবশ্য স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চাইতে কয়েক গুণ বেশি। উদ্বেগের বিষয় হইল, জন্ডিসসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটা সত্ত্বেও এখনো প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয় নাই। বরং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি একে অপরকে দায়ী করিয়া চলিয়াছে—যাহা দুর্ভাগ্যজনকই বলিতে হইবে।
অনস্বীকার্য যে, সরকার বসিয়া নাই। জন্ডিস প্রতিরোধে হালিশহরের পাশাপাশি আগ্রাবাদ এলাকায়ও অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করিয়াছে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। নেওয়া হইয়াছে পানি পরীক্ষার উদ্যোগ। বাংলাদেশ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা (আইইডিসিআর) প্রতিষ্ঠানের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আক্রান্ত রোগীদের রক্তের নমুনা এবং ওই এলাকার ওয়াসার পানি পরীক্ষা করিয়াছেন। আক্রান্তদের রক্তে হেপাটাইটিস-ই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়াছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং ওয়াসার সরবরাহকৃত দূষিত পানির কারণে হালিশহর এলাকার মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হইতেছে বলিয়া মনে করে সিভিল সার্জনের কার্যালয়। কিন্তু এই অভিযোগ মানিতে রাজি নহে চট্টগ্রাম ওয়াসা। বাস্তবতা হইল, হালিশহর-আগ্রাবাদ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি ও চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি কাহারও অজানা নহে। এই পরিস্থিতি হইতে উত্তরণের জন্য এলাকাবাসী আবেদন-নিবেদন আন্দোলন-সংগ্রাম সবই করিয়াছে। কিন্তু পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রহিয়া গিয়াছে। শুধু তাহাই নহে, অপরিকল্পিতভাবে গড়িয়া ওঠা নদীতীরবর্তী হালিশহর আবাসিক এলাকায় যেই পাইপলাইন দিয়া ওয়াসা পানি সরবরাহ করিতেছে তাহাও প্রায় ৫০ বত্সরের পুরাতন বলিয়া জানা যায়। বলিলে অত্যুক্তি হইবে না যে, এই সম্মিলিত অব্যবস্থারই কুফল ভোগ করিতেছে স্থানীয় জনগণ।
চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদের ঘটনা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তাও বহন করিয়া আনিয়াছে। সেইটি হইল, আমরা যেইভাবে পরিবেশ দূষণ করিয়া চলিয়াছি তাহাতে এখনই সতর্ক না হইলে দেশের অন্যত্রও অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিতে পারে। সমস্যাটি জটিল এবং বিচ্ছিন্নভাবে ইহার সমাধান সম্ভব নহে। আমরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে এই সমস্যা মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com