,
সংবাদ শিরোনাম :

নারী নির্যাতন নির্মূলে বাধা নষ্ট দলীয় রাজনীতি’

সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, নষ্ট দলীয় রাজনীতি সমাজকে বিভক্ত করে ফেলেছে। নারী নির্যাতন নির্মূলের পথে তা একটি বড় বাধা। আর তাই মনে হয় তনু হত্যায় দোষীরা কোন দিনই শাস্তি পাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন নারী নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হয়। এর বিরুদ্ধে আমরা কি কঠোর নাগরিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছি? নব্বইয়ের দশকে দুই-একটি ঘটনার ক্ষেত্রে হয়েছে তখন বেগম সুফিয়া কামাল জীবিত ছিলেন। আমরা কুমিল্লার তনু হত্যার বিরুদ্ধে কিছুই       করতে পারিনি।

 

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ‘‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলনে সামাজিক শক্তির ভূমিকা ও কবি সুফিয়া কামাল’’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, নারীর মর্যাদা রক্ষার সামাজিক আন্দোলন হতে হবে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতি নিরপেক্ষ। মাদকের সঙ্গে নারী নির্যাতনের সম্পর্ক রয়েছে। পরিবারে মাদকাসক্তদের দ্বারা নারী নির্যাতিত হচ্ছে। সুতরাং নারীর নিরাপত্তার জন্যে মাদকমুক্ত সমাজ চাই। তাই নাগরিক সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে হবে। বেগম সুফিয়া কামাল বলেছেন, ‘মেয়েদের স্বাধীনতা কেউ দিয়ে দেবে না, আদায় করে নিতে হবে।’ তাঁর কথার প্রতিধ্বনি করে বলব, নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থাও নারীকেই করতে হবে, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তা তারা পাবেও। প্রয়োজন শক্ত উদ্যোগ ও প্রতিবাদী হওয়া। বেগম সুফিয়া কামালের জীবন ও কর্ম থেকে আমরা সেই শিক্ষাই পাই। তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে  কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানমের সভাপ্রতিত্বে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ও গঠনমূলক অবদানের জন্য সুফিয়া কামাল সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন বিমল আগরওয়াল এবং জাহাঙ্গীর আলম।

 

আয়শা খানম বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, সমাজ এবং রাষ্ট্র গড়ার আন্দোলনের একজন অগ্রদূত। যার মূল লক্ষ্য ছিল সামজের সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমানে সর্বত্র নারীরা বিচরণ করছেন, সুফিয়া কামালের মতো ব্যক্তিরাই এই পথ তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও নারীরা আজ যে সফলতা বয়ে এনেছেন তা এই আন্দোলনেরই ফসল। কিন্তু তারপরও সমাজে আজ ঘটে চলছে নারীর প্রতি নানা ধরনের সহিংসতা।

 

মালেকা বানু বলেন, সুফিয়া কামাল তিনি সকল বঞ্চনা, অসমতার বিরুদ্ধে এবং সমাজে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক আজীবন লড়াকু সৈনিক ছিলেন। আমরা আমাদের দৈনন্দিন প্রাত্যহিক জীবনে প্রতি মুহূর্তে সুফিয়া কামালের দারস্থ হই। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণর উত্স।

 

 অনুষ্ঠানের শুরুতে  সংগীত পরিবেশন করবেন লাইসা আহম্মেদ লিসা, জান্নাত এ ফেরদৌস লাকী, মাহফুজা আক্তার রুমী এবং মাধবী বণিক। কবি সুফিয়া কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ এবং কবি কন্যা সুলতানা কামাল ও সাঈদা কামাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

[related_post themes="flat" id="3265"]

সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃবোরহান,হাওলাদার(জসিম)

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক,সনজিত সাহা,মোবাইল০১৯১২৩৩৮৮৩৪,ইমেইল:

Newsbhorerdhani@gmail.com

বার্তা ও বাণিজ্যিক.কার্যালয় : ২৬২/ক.বাগীচাবাড়ী(৩য়া)ফকিরাপুল.মতিঝিলওসম্পাদক/কর্তৃকতুহিনপ্রিন্টিংপ্রেস ফকিরাপুলমতিঝিল,ঢাকা১০০০।