বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:১৪ অপরাহ্ন

অবৈতনিক শিক্ষা বৈতনিক কেন 

অবৈতনিক শিক্ষা বৈতনিক কেন 

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এই সুবিধা  উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীই পাইতেছে না। এই পর্যায়ে এখনো প্রায় ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে টিউশন ফি দিয়াই প্রথম হইতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িতে হইতেছে। অবৈতনিকভাবে লেখাপড়া করিতেছে কেবল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৩৯ লক্ষ শিক্ষার্থী। ইহার বাহিরে রহিয়াছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ হাইস্কুল সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্কুল ও কেজি স্কুলসহ অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধকোটি শিক্ষার্থী। তাহাদের মধ্যে অন্তত ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে মাস শেষে টিউশন ফি গুণিতে হইতেছে যাহাদের অর্ধেকই মেয়ে। এদিকে বলা হইতেছে, ‘মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক’, ‘ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের খরচ নাই’ ইত্যাদি। কিন্তু এখানেও আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক হইতে ডিগ্রি পর্যন্ত টিউশন ফি পরিশোধ করিতে হইতেছে অন্তত ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীকে। এমনকি উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়িবার কথা থাকিলেও তাহারাও এই সুবিধা হইতে বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে তাহাদের উপবৃত্তি হইতে বেতন বাবদ টাকা কর্তন করিয়া লইবার পরও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় টিউশন ফি হিসাবে। অর্থাত্ স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে কার্যত সকলে টিউশন ফি দিয়াই লেখাপড়া করিতেছে। সেক্ষেত্রে অবৈতনিকের যে সুবিধা পাওয়ার কথা, তাহা আসলে মিলিতেছে না। বিশেষত মেয়েরা এই সুবিধা না পাওয়ায় নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হইতেছে।

বাংলাদেশ এখন দ্রুত গতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে ধাবিত হইতেছে। আমরা স্বপ্ন দেখিতেছি আগামী দুই-এক দশকেই উন্নত দেশে পরিণত হইবার। এইক্ষেত্রে শিক্ষার ভূমিকা সর্বাধিক। এইজন্য সর্বাগ্রে শিক্ষার হার শতভাগে উন্নীত করিতে হইবে। এই লক্ষ্যেই আমাদের দেশে সার্বজনীন ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রচলন করা হইয়াছে। আর ইহা কার্যকর করিতেই অবৈতনিক সুবিধার প্রসঙ্গটি সবার আগে চলিয়া আসে। কিন্তু আমরা যেইভাবে ফলাও করিয়া প্রচার করিতেছি, সেইভাবে ইহা কার্যকর করা হইতেছে না কেন? এখন ইহা সংশোধনের সময় আসিয়াছে। আগে প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি সকল বিদ্যালয়ে শতভাগ অবৈতনিক শিক্ষা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহা নিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে গভীরভাবে ভাবিয়া দেখিতে হইবে। ইহার পর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য পর্যায়ক্রমে হইলেও শিক্ষাব্যবস্থাকে করিতে হইবে অবৈতনিক।

ইহা সকলের জানা যে, সামপ্রতিককালে আমাদের দেশে শিক্ষার ব্যয় বাড়িয়া গিয়াছে। বইপত্র, খাতা-কলম, স্কুলের বেতন, কোচিং ফিসহ নানা আনুষঙ্গিক ব্যয় এতটাই বাড়িয়াছে যে, অনেক অভিভাবক তাহা পরিশোধে হিমশিম খাইতেছেন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থীর পিছনে প্রতি মাসে অনেক অভিভাবককে সাত-আট হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করিতে হইতেছে। ইহাতে বিশেষ করিয়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তাগণের নাভিশ্বাস উঠিতেছে। বলাবাহুল্য, দেশে এই শ্রেণির ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যাই বেশি। অতএব, এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY ThemesBazar.Com