শুক্রবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৮, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে শেষ সময়ে জমে উঠেছে আতর টুপির ব্যবসা

ঠাকুরগাঁওয়ে শেষ সময়ে জমে উঠেছে আতর টুপির ব্যবসা

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:গত বছর এ সময় বেচা-বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। মানুষের মধ্যে আতর কেনার প্রবণতা অনেক বেশি ছিল। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সেন্ট, বডি স্প্রে ও প্রসাধনীর কারণে এখন আর আতরের প্রতি মানুষের তেমন ঝোঁক নেই। তবে গত কয়েক দিনের চেয়ে এখন একটু বেচা-বিক্রি ভালো।’
কথাগুলো বলছিলেন আতরের দোকান পেতে বসা ব্যবসায়ী সুজন ইসলাম।
তিনি  প্রতিবেদকের কাছে বলেন, আপনারা জানেন আমাদের দেশে আতর তেমন উৎপাদন হয় না। বিদেশি আতরই আমাদের দেশে বেশি চলে। গেল বছর বা তারও আগে আমরা যে পরিমাণ আতর বিক্রি করেছি, এ বছর তার অর্ধেকও নেই। দাম স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। এখানে প্রায় দেড়শর মতো আতরের দোকান রয়েছে। সবারই একই অবস্থা।
বেশ কয়েকজন আতরের দোকাদারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশে শুধুমাত্র ‘আগর’ নামে এক ধরনের আতর তৈরি হয়। আর তা সিলেটে উৎপাদিত হয়। এ আতরের দাম বিদেশি অনেক আতরের চেয়ে বেশি। এক তোলা আতর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য— এ আতর চড়া মূল্যে রফতানি হয় বিদেশে। এ দেশের মানুষ এই আতর কিনে না।
তবে বিদেশ থেকে যে আতরগুলো বাংলাদেশে বেশি চলে তার মধ্যে রয়েছে— কাঁচা বেলি, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, বকুল, বেকি  ইত্যাদি। সৌদি আরব থেকে আসে আহলে নুদ, দোহলা নুদ, মোতাবেলুল আরাব, আলতেজার, স্কলাটকালেক্ট, ব্লাকেক্স ইত্যাদি আতর। ভারত থেকে  কারলাইন কোম্পানির আতর বেশি আসে। পোস্তরি, জাটাক্স ইত্যাদি ভারতীয় আতর। দুবাই থেকে আল রিয়াদ কোম্পানির বেশ কিছু আতর আসে বাংলাদেশে। এর মধ্যে রয়েছে— আলকারিজ, তাসকাপা ও বাকুরা অন্যতম।
ঠাকুরগাঁওয়ে  বিভিন্ন আতরের দোকান ঘুড়ে দেখা গেছে, সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা মূল্যের আতর বিক্রি হচ্ছে। এটা নির্ভর করে ক্রেতার সামর্থ্যের উপর। সবচেয়ে দামি আতর আসে দুবাই থেকে যা আল হারাবাইন কোম্পানির তৈরি। আল হারাবাইন কোম্পানির বাংলাদেশে নিজস্ব অফিস রয়েছে। তারা বিদেশ থেকে আতর এনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে।
আল রিয়াদ কোম্পানি তাদের আতর বাংলাদেশি ইমপোর্টারদের মাধ্যমে দেশীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের মাঝে বিক্রি করে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খুচরা ব্যবসায়ীরাও আতর বিক্রি করেন।
আতরের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আতর ব্যবসায়ী সুজন ইসলাম বলেন, আল রিয়াদ কোম্পানির আতরের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বেশি। এবছর এই কোম্পানির আতর ইমপোর্ট কম হওয়ায় এ কোম্পানিটির আতরের দাম বেশি পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান এ আতর ব্যবসায়ী।
এ এলাকায় টুপির দোকানগুলো ঘুড়ে দেখা গেছে একই চিত্র। গত কয়েক দিনের চেয়ে বর্তমানে বিক্রি বেড়েছে সামান্য। এখন কেনাবেচা একটু জমে উঠতে দেখা গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য— এ বছর তুলনামূলক টুপি বিক্রি অনেক কম।
তবে অনেকে বলেছেন, বর্তমানে বিভিন্ন বাজার ও প্রতিটি মসজিদের সামনে এখন টুপির দোকান দেখা যায়। ফলে আগের মতো শহরে এসে টুপি কেনার লোকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
টুপি ব্যবসায়ী মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, দাম আগের মতোই আছে। টুপির দাম বাড়েনি। কিন্তু কমেছে ক্রেতার সংখ্যা। তার দোকানে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা মূল্যের টুপি বিক্রি হচ্ছে। বেশি দামি টুপিগুলো আসে পাকিস্তান থেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




https://www.facebook.com/
Design & Developed BY ThemesBazar.Com