মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৫১ অপরাহ্ন

নাগরিক সেবায় সদর দক্ষিণ মডেল থানা কুমিল্লা

নাগরিক সেবায় সদর দক্ষিণ মডেল থানা কুমিল্লা

এম এ কাউসার তুষারঃদেশের সীমান্তবর্তী জেলা সমূহের মধ্যে কুমিল্লা অন্যতম প্রাচীন এ জেলার সর্ব পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চল নিয়ে সদর দক্ষিণ থানা গঠিত হয় কিছু বছর পূর্বে, প্রকৃতি ঘেরা বিস্তৃর্ণ অঞ্চল জুড়ে এক পাশে ইন্ডিয়া- বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাহাড় অন্যদিকে প্রাক ঐতিহাসিক যুগের নিদর্শনে ঘেরা লালমাই পাহাড়, এই অঞ্চলের মানুষের মনে স্বস্থির কারণ গড়ে উঠা নব নির্মিত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্বারা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কিছু ক্ষুদ্র শিল্প, হস্তশিল্প, কর্মসংস্থানের কারণে কিছু নাগরিক দেশ ও দেশের বাইর হতে এসে স্ব-পরিবারে বসবাস করছে, সে দিক বিবেচনা করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের খুব গুরুত্বপূর্ণ থানা সদর দক্ষিণ মডেল থানা, থানাধীন বসবাসরত নাগরিকদের প্রশাসনিক সেবা আরও গতিশীল করতে নাগরিকদের আরও বেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ করা প্রয়োজন মনে করেন ভিকটিম রিকভারী সংস্থা, সূত্র তথ্য মতে জানান- উক্ত থানাধীন এর বেশীরভাগ নাগরিকগণ প্রবাস জীবন-যাপন করার কারণে অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, সামাজিক কাঠামো পূর্ণগঠনের জন্য কানেক্টিভিটি ব্যাতীত উপায় নেই জানান উক্ত সংস্থার কর্ণধার তানিয়া। সূত্র আরো জানান- পারিবারিক অন্ত: কলহের সঠিক সমাধান না পেয়ে অনেক নারী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে, এই থেকে উত্তোরণের জন্য শেয়ারিং জরুরী মনে করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাগরিক বিশ্লেষকগণ, ভিকটিমদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের থেকে সঠিক তথ্য নিয়ে এই হতে উত্তোরণের জন্য কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করে নাগরিক সেবা আরও দ্রুত প্রদান করা প্রয়োজন মনে করেন তারা, তথ্য মতে জানা যায়- সদর দক্ষিণ থানা এলাকায় মাদকের ভয়াবহতায় সবচেয়ে বেশী ছিল কিছুদিন পূর্বেও, নারী পুরুষ সমানে ঝুঁকছে মাদকে, এই থেকে উত্তোরণের জন্য বেশীর ভাগ পরিবার মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্রের উপর নির্ভর করছেন। কিন্তু,এতে শুধু টাকা গচ্ছা ছাড়া কিছুই হয় না, সন্তানদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না, বদ্ধ ঘরে ৬০ হতে ৭০ জনকে থাকতে হয়, শারীরিক নির্যাতন কখনো মেডিকেল সাইন্স গ্রহণ করে না, যা উনারা করে থাকেন। এমনিই অনেক ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই না করে একটি রুমে ৩/৪ মাসের জন্য আটকে রেখে অন্যের থেকে টাকা নেয়, ভুক্তভোগীর কাছে তার কারণ জানতে চাইলে জানান, কিছু দালাল কমিশন পাবার আশায় বিভিন্ন পরিবারে গিয়ে তাদের কনভেন্স করে এই সব লোক সেন্টারে পাঠায়, যখন এইসব পরিবার জানতে পারে উক্ত ব্যক্তি মূলত দালাল সে টাকার লোভে আমাকে ভূল বুঝিয়ে উল্টু আমাদের ক্ষতি করতে চেয়েছিল, এখন আমরা আমাদের ভূল বুঝতে পেরেছি, এবং এইসব দালালদের কাছ হতে দূরে থাকার জন্য অন্যদের অনুরোধ করছি, আর এইসব নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্রের যোগ্যতা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অনুরোধ করছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। কিছুকিছু মাদক নিরাময় কেন্দ্রের সদস্যরা ভর্তি করা রোগীদের হতে রাখা বিভিন্ন ব্যবহার করা দ্রব্যাদি ফেরত দেয় না, এখানে অনেক ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এই ব্যাপারে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি থানা পুলিশের ব্যাপক ভূমিকা রাখা উচিত মনে করেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি, এমনি প্রত্যেকের পরিবার হতে নির্ধারিত খাবারের টাকা দেওয়া স্বত্ত্বেও পরিমাণমত খাবারতো দেয় ই না, বরং পরিবারের সদস্যরা শুকনো বা রান্না করা খাবার দিলেও তা ঠিকভাবে প্রদান করা হয় না, যা সম্পূর্ণ মানবাধিকার লঙ্ঘন মনে করেন মনোবিজ্ঞানীগণ। তারা আরো জানান- তথা কথিত রিহ্যাব সেন্টার যা এন এ প্রোগ্রামের উপর ভিত্তি করে পরিচালনা করার কথা থাকলেও তা পরিচালনা হচ্ছে না, কোনো ব্যক্তি যদি এনএ প্রোগ্রামের স্মরণাপন্ন হন তখন তাকে নাইক্রোটিক্স এনোনিমাস সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে, কোনো ভাবে শারীরিক আঘাত করা যাবে না, এতে উক্ত ব্যক্তি আরো মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার আশংকায় থাকে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকটি সেন্টারের বদ্ধ ঘর হতে অনলাইনে মনিটরিং ও যাচাই-বাছাই করে এই সব সেন্টার মান সম্মত কিনা তা দেখা দরকার, প্রয়োজনে প্রশাসনের কোনো ব্যক্তি বা টিম রোগী সেজে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করে উক্ত প্রেক্ষাপটে কি করণীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে প্রোগ্রামের নামে কোনো ব্যক্তির যেন সময় নষ্ট না করে, কারণ এইসব তথাকথিত সেন্টার মূলত অবৈধ টাকা কামানোর নেশায় মেতেছে, এ থেকে উত্তোরণের জন্য সেসব সেন্টার সরাসরি মনোবিশেষজ্ঞগণ দ্বারা পরিচালিত হওয়া দরকার, যারা এর সর্ঠিক পরিচর্যাটুকু জানেন, সূত্র ও তথ্য মতে জানান- এমএ প্রোগ্রাম দ্বারা এই দেশে নাগরিক সেবা আজও দিয়ে যাচ্ছে ডক্টর ব্রাদার ড্রায়োজাল রাজধানীর আপনগাঁওয়ে, প্রয়োজনে এইসব স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আসতে পারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, এতে জেলা শহরের অনেক তথা কথিত সেন্টার পুনরূদ্ধার করতে পারবেন, আইন সংশোধন ও সংযোজন করে, তেমনি সদর দক্ষিণ থানাধীন গড়ে উঠেছে কিছু অবৈধ হারবাল কোম্পানী ও প্রতিষ্ঠান, যা পদুয়ার বাজার হতে একটু দক্ষিণ দিকে গেলে ডান পাশে দেখা যাবে ভারত হারবাল, কলিকাতা হারবাল ও জাঙ্গালিয়া বাস ষ্ট্যান্ডের পাশে চোখে পড়বে কুমিল্লা হারবাল, যা মূলত স্বাভাবিক মানুষের যৌন ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়, এ থেকে প্রতারণার শিকারও হয়েছেন অনেক মানুষ, তথ্য নিয়ে জানা যায়- তা জেলা ঔষধ প্রশাসক সঠিক ভূমিকা পালন করার কথা থাকলেও তাদের অব্যাপস্থাপনার কারণে চিকিৎসা শাস্ত্রে সেবা নিতে এসে প্রতারিত হচ্ছে, সূত্র ও তথ্য মতে জানান- স্থানীয় ঔষধ প্রশাসন তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাজ করার কথা থাকলেও তা করছে না! এই নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে বলে জানান- সদর দক্ষিণের স্থানীয় লোকজন, নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো অগ্রগামী হওয়া দরকার ও শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতি করণের মূল বাধা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে শিক্ষা ব্যবস্থার পথকে আরও মসৃণ করতে অনুরোধ জানান স্কুল শিক্ষিকা নিলুফা। তিনি আরও জানান- স্কুল কলেজ পড়–য়া মেয়েদের ভয়ভীতি কাটানোর জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ক্যাম্পিং ও কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে তা দূর করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, জনমনে নাগরিকদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিক সেবা কিভাবে প্রদান করছেন এর উত্তরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ- ইন্সপেক্টর মো: নজরুল ইসলাম জানান- তিনি ২৬-০৭-২০১৬ইং যোগদান করার পরবর্তীতে তথ্যমতে জানতে পারি থানা এলাকায় ১১ কিলোমিটার সীমান্ত অঞ্চল রয়েছে। আমরা আগে যেটা উপলব্দি করতাম মাদকের ব্যাপারে, আমি জয়েন করার পর জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করি, এমন কোন ওয়ার্ড নেই যেখানে- আমি আমার সহকর্মী, সরকারী প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে ক্যাম্পিং করিনি, আমি সব সময় চেষ্টা করেছি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে। এতে কারোর আমার প্রতি কষ্ট নিলেও আমি তাদের বলেছি, দেশ ও নাগরিকদের স্বার্থে আপনারা সচেতন হউন, এমন কোন কাজ করবেন না, যেন আমাকে কঠোর হতে হয়, বাচ্চাদের সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা করেছি, স্কুল ও কলেজে লিফলেট বিতরণ করে, শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে, বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজনে ১৮টি স্কুল- কলেজ অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছি, এতে জন সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে মনে হয়, নাগরিকদের সেবা প্রদানের স্বার্থে ২০১৬ সালে দস্যুতার ৬টি, শিথেল চুরি ৪টি, খুন ৭টি, অস্ত্র উদ্ধার ৯টি, দেশীয় ও বিদেশী অপহরণ ৬টি, মাদক আইনে ২৩৯টি, চোরাচালান ৬টি, পুলিশ সংক্রান্ত ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন ১৫টি, মোটর দুর্ঘটনা ৮টি, দ্রুত বিচার ১টি, অন্যান্য ৩৪টি। ২০১৭ইং সালে ডাকাতি ৩টি, দস্যুতার ১১টি, শর্টগান উদ্ধার ৬টি, চুরি ৯টি, খুন ৬টি, অস্ত্র ১৩টি, অপহরণ ১৩টি, মাদক আইনে ৩৭৬টি, চোরাচালান ১১টি, নারী ও শিশু ২০টি, মোটর দুর্ঘটনা ১৮টি, দ্রুত বিচার ৪টি, অন্যান্য ৮১টি মামলার কাজ শুরু করে শেষ করার অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকটি, চেষ্টা করছি আমার থানাধীন ৭০ জন লোকবল দ্বারা ইপিজেড, কোটবাড়ী ফাঁড়ী ও ভুশ্চি তদন্ত কেন্দ্র এর সহায়তায় থানা হতে নাগরিকদের আইনী সেবা দিতে এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মাদক বিরোধী অভিযানে আমরা বিশেষ বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করেছি। সূত্র ও তথ্য মতে জানান- উক্ত ইন্সপেক্টর ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে ২০১১ সালে পিপিএম পুরষ্কার পান, ২০০৫ সালে লাইবেরিয়া ১ বছর, ২০০৭ সালে পূর্ব তিমুর ১৫ মাস, ২০১১ সালে সুদানে ১ বছর সেট মিশন, অবজারবার মিশন ও ইউএন মিশন সম্পন্ন করে বর্তমানে সদর দক্ষিণ থানা অফিসার্স ইনচার্জ এর দায়িত্ব পালন করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




https://www.facebook.com/
Design & Developed BY ThemesBazar.Com