রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
ঢাকা ময়মনসিংহ রোড ও গাজীপুর টাঙ্গাইল রোডে আবাসিক হোটেলে চলছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রমরমা দেহ ব্যবসা। আশুলিয়া থানা যুবলীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল তসবির মহরের অশ্লীল পোস্টারে সয়লাব যশোর জামালপুরে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরার বাবুলিয়ার ত্রাস সাদেক গাজী আটক ঈদ-উল আযহা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত যশোর দাকোপের চালনায় শ্রীশ্রী অনুকুলচন্দের ১৩১ তম আর্বিভাব মাসভাদ্রমাস ব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন বেনাপোলে৩০লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ীর চালান আটক করেছে বিজিবি। শ্রীপুরে শির্ষ্য মাদক ইয়াবা ব্যাবসায়ি পিচ্চি রাজিব । সন্তানদের স্বাভাবিক জীবন চান কাজল
মাদকবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হইলে কাহাদের লাভ?

মাদকবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হইলে কাহাদের লাভ?

মাদকের বিরুদ্ধে সরকার একঅর্থে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করিবার পর মাদকবিরোধী অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাইতেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশেও মাদক-বাণিজ্যের শিকড়বাকড় অনেক গভীর অবধি প্রোথিত। আমাদের দেশেও মাদকের পৃষ্ঠপোষকরা প্রশাসন ও রাজনীতির প্রভাববলয়কে ব্যবহার করিয়া থাকে। এই কারণে এই ধরনের অপরাধীদের ‘নিয়ন্ত্রণ’ করা খুব সহজ নহে। সম্প্রতি কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের নিহত হইবার ঘটনা লইয়া তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলিয়াছে। চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের প্রতি বিপুল জনসমর্থন সত্ত্বেও এই আলোচনা-সমালোচনার মূলে রহিয়াছে নানা মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত একটি অডিও। আমরা আগেও বলিয়াছি, নিহত একরাম দোষী নাকি নির্দোষ—সেই তর্কে না গিয়াও বলা যায় যে, এই ধরনের মৃত্যু দুঃখজনক। এই ক্ষেত্রে ভুল বা অন্যায় কিংবা দুরভিসন্ধিমূলক কিছু ঘটিয়া থাকিলে তাহার বিচার হওয়া উচিত নিরপেক্ষভাবে।
মাদক নির্মূলে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সদিচ্ছার ব্যাপারে আমরা গত কয়েক মাসে একাধিক সম্পাদকীয় লিখিয়াছি। সত্যিকার অর্থে মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ কিংবা বিতর্কিত করিতে স্বার্থান্বেষী মহল যে তাহাদের সাধ্যমতো সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখিবে, তাহাতে বিস্ময়ের কিছু নাই। ইহা ঠিক যে, কোনো বিতর্কিত মৃত্যুই কাম্য নহে। কিন্তু প্রশ্ন হইল—ইহার প্রতিকার কী? প্রশ্নটি আমরা ইতিপূর্বে একাধিকবার উত্থাপন করিয়াছি। ছোট্ট প্রশ্ন, কিন্তু ইহার ব্যঞ্জনা বিশাল। কারণ মাদকের আগ্রাসন যেই পর্যায়ে পৌঁছাইয়াছে তাহাতে রাষ্ট্র নীরব-দর্শকের ভূমিকা পালন করিতে পারে না। দেশের একটি প্রজন্মকে ধ্বংস হইয়া যাইবার পথ উন্মুক্ত রাখিতে পারে না। বর্তমানে আমাদের দেশে সবচাইতে বেশি সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী রহিয়াছে। দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। অর্থাত্ বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকালের সুবিধা ভোগ করিতেছে। কিন্তু আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীর বৃহত্ একটি অংশকে যদি মাদকের নেশায় বুঁদ করিয়া রাখা হয়, তাহা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের বোনাস সুফলের পথ রুদ্ধ হইবে নিশ্চিত ভাবেই। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যউপাত্ত হইতে জানা যায়, দেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি মাদকাসক্ত ব্যক্তি রহিয়াছে। এই মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজেকে ধ্বংসের পাশাপাশি তাহাদের পরিবারকেও দুর্বিষহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলিয়া দিয়াছে। সর্বগ্রাসী মাদক-বাণিজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে দিন দিন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করিতেছে অপরাধ প্রবণতা। অন্যদিকে মাদক-বাণিজ্যের মাধ্যমে গোপনে সারা দেশে যে বিশাল অঙ্কের টাকার হাতবদল হইতেছে সেই টাকা কাহারা কোথায় কী কাজে ব্যবহার করিতেছে—তাহাও অত্যন্ত আতঙ্কের একটি বিষয় বটে।
সুতরাং সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সহিত পরিচালনা করিতে হইবে মাদকবিরোধী অভিযান। আর, মাদকাসক্তদের জন্য কাউন্সেলিং বা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করাটাও জরুরি। মাদক হইতে মুক্তি পাইতে চাহে অনেকেই, কিন্তু মাদকাসক্তি সংক্রান্ত যে ধরনের কাউন্সেলিং বা পরামর্শের প্রয়োজন, তাহার আধুনিক ব্যবস্থা আয়োজনের অভাব রহিয়াছে। তথ্যপ্রযুক্তিকেও লাগানো যাইতে পারে এই কাজে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




https://www.facebook.com/
Design & Developed BY ThemesBazar.Com