বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
কালিগঞ্জে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুলন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্ণামেন্ট ২০১৮ অনুষ্ঠিত । কুমিল্লায় বিলুপ্তির পথে ৫৫ প্রজাতির দেশীয় মাছ পূর্ববর্তী যৌবনে ফিরছে ‘তিতাস’ পরবর্তী বেহাল কুমিল্লার ১২’শ কিলোমিটার সড়ক কুমিল্লায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ পর্ব-৭ সদর দঃ মডেল থানার বর্তমান কার্যক্রম কালিহাতীতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত অমান্য করে ইলিশ ধরার দায়ে ৭৭ জেলেকে কারাদন্ড অবসান ঘটিয়ে জরাজীর্ণ সাতক্ষীরা নিউ মার্কেটটি ভাঙা শুরু তারাগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে র‌্যালী ও মানববন্ধন  পৌরসভায়  সরকারের সাফল্য ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
গাইবান্ধায় বেগুনী ধান নিয়ে তোলপাড়, পাহারায় গ্রাম পুলিশ !

গাইবান্ধায় বেগুনী ধান নিয়ে তোলপাড়, পাহারায় গ্রাম পুলিশ !

মোঃ জানে আলম শেখঃসুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের আইপিএম কৃষক ক্লাবের সদস্য দুলালী বেগম। তিনি ২০১৭ সালে তার এক আত্মীয়ের কাছে নতুন উদ্ভাবনী ধানের কথা শুনে সামান্য বীজ সংগ্রহ করে বোরো মৌসুমে মাত্র এক শতক জমিতে কৌতূহলবশত এই ধান চাষ করেন। চাষের পর ধানের রঙে ভিন্নতা দেখে তার কৌতূহল আরও বেড়ে যায় এবং উৎপাদিত ধান থেকে ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে তিনি স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রতি গোছাতে একটি করে চারা দিয়ে প্র্রায় ২৫ শতক জমিতে ওই ধানের আবাদ করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ধান গাছটি দেখতে পুরোপুরিই বেগুনি। পেনিকেল বা শীষটি সাধারণ উফশী ধানের মতোই। গড়ে প্রতি গোছাতে ২৫টি কুশি পাওয়া গেছে, যেখানে পার্শ্ববর্তী উফশী ক্ষেতে গড়ে ২১টি গোছা রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিন পর পেনিকেল সাইজ এবং প্রতিটি পেনিকেলে কতটি ধান থাকবে সেটি জানা যাবে। কুশির সংখ্যা যেহেতু তুলনামূলক বেশি সে কারণে ফলন বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। জীবনকাল অন্যান্য উফশী ধানের মতোই ১৪০ দিন হতে পারে। বেগুনি ধানের চাষাবাদের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শত শত কৃষক একনজর দেখতে আসছেন।

কৃষাণী দুলালী বেগম জানান, এই ধানের চারা রোপণের পর তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কৃষি কর্মকর্তারা তাকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য উৎপাদিত সব ধান বীজ হিসেবে সংগ্রহে রাখার জন্য ইতিমধ্যে বীজ সংরক্ষণের পাত্র দিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, এই বেগুনি ধানকে চীনে নিষিদ্ধ ধান বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন চীনের রাজপরিবারের মধ্যেই কেবল এ ধানের ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। এই ধানের ভাত খেলে দীর্ঘজীবী ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়া যায় বলে চীনারা বিশ্বাস করত। রাজপরিবারের বাইরে এই ধানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্যের সাজা ছিল মৃত্যুদণ্ড। বিভিন্ন উৎসবে সম্রাট যোদ্ধাদের সম্মানে একত্রে এ ধানের ভাত খেয়ে থাকতেন।

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মাত্রার এন্থোসায়ানিন ও এন্টিঅক্সিডেন্টের কারণে এ ধানের রঙ বেগুনি হয়। ব্লু-বেরির চেয়েও এই ধানে এন্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি।

এ ধান বার্ধক্য প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এ ধানে প্রচুর ফাইবার ও ভিটামিন ই রয়েছে। নিয়মিত এ ধানের ভাত খেলে ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। তাছাড়া ডায়াবেটিস ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর। এটি বাংলাদেশে চাষাবাদের তেমন নজির না থাকায় এ বিষয়ে গবেষণা আমাদের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




https://www.facebook.com/
Design & Developed BY ThemesBazar.Com