,

Save

সংবাদ শিরোনাম :
» « বিয়ের পরই সোনম-আনন্দকে শুভেচ্ছা কন্ডোম কম্পানির!» « দাকোপ উপজেলা প্রেসক্লাবের দুতালা ভবনের ছাদের নির্মানধীন ঢালাইয়ের কাজ আজ শুরু হয়েছে।» « কুড়িগ্রামে গ্রামে গ্রামে চলছে মাদক বিরোধী সমাবেশ» « জামালগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ৯টি দোকান আগুনে পুড়ে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি» « অশীতিপর আব্দুস ছালাম কবে বয়স্ক ভাতা পাবেন?» « সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে চুরির সময় চোর আটক» « বাংলাদেশ-ভারতের বহুমুখী সম্পর্ক দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের মডেল» « নড়িয়ায় সাংবাদিকদের সম্মানে সহকারি কমিশনার (ভুমি)’র ইফতার পার্টি মোঃ রােসল সরদার॥» « সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত» « পাবনার আটঘরিয়ায় বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

স্কুল ব্যাংকিংয়ে এক বছরে বেড়েছে ২ লাখ অ্যাকাউন্ট স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স আগামী শনিবার

স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তুলতে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর এ উদ্যোগ স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের জনপ্রিয়তাও অব্যাহতভাবে বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে স্কুল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ও সঞ্চয় স্থিতির পরিমাণ। স্কুল ব্যাংকিং শুরু হওয়ার সাত বছরের ব্যবধানে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে। একই সময়ে সঞ্চয় স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ‘স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স ২০১৮’ অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার। ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের সবগুলো ব্যাংকের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথি অংশ নেবে। সবগুলো ব্যাংক অংশ নিলে অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটিতে রয়েছে সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে এ কর্মসূচি বাস্তাবয়ন কমিটিতে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সুবিধা ও তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবার সঙ্গে পরিচিত করানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের ২ নভেম্বর স্কুল ব্যাংকিং বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। এরপর থেকেই স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আকর্ষণীয় মুনাফার নানা স্কিম চালু করে। ২০১০ সালে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায় ২০১১ সাল থেকে। প্রথম বছরে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয় ২৯ হাজার ৮০টি।
পরিসংখ্যান বিশ্লে­ষণে দেখা যায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় দেশের ব্যাংকগুলোয় মোট এক লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭টি হিসাব খোলা হয়। ওই সময় হিসাবগুলোয় মোট স্থিতি ছিল ৯৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৬টি হিসাবের বিপরীতে জমাকৃত সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। যেখানে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭০টি হিসাবের বিপরীতে জমাকৃত সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এক লাখ ৯৬ হাজার ৫৬৬টি অ্যাকাউন্ট বেড়েছে। আর স্থিতি বেড়েছে ৩৪২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের সঙ্গে পাল­া দিয়ে বাড়ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ। ফলে ব্যাংকগুলোতে এই কার্যক্রমের আওতায় খোলা হিসাবের পাশাপাশি আমানতের পরিমাণও অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। এর পরেই রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। আর আমানত বা সঞ্চয় স্থিতির দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। এর পরেই রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম খুবই ভালোভাবে এগুচ্ছে। এতে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক। শিক্ষার্থীরাও ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সুফল ভোগ করে আনন্দিত। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ‘স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স’ সম্পন্ন করেছে। আগামীতেও এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ স্কুলের ছাত্রছাত্রী। স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সঞ্চয়ের অভ্যাস ছেলেমেয়েদের মনে এনে দেবে আর্থিক শৃঙ্খলা, যা তাদের সুশৃঙ্খল জীবন গঠনেও সহায়ক হবে। এসব হিসাবকে বীমার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কার্যরত ৫৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মধ্যে শহরেই অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেশি। আর মোট অ্যাকাউন্টের মধ্যে ছাত্রীদের থেকে ছাত্ররা বেশি এগিয়ে রয়েছে।
১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর আগ্রহী ছাত্রছাত্রীরা তাদের বাবা-মা অথবা বৈধ অভিভাবকের সঙ্গে যৌথ নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। মাত্র ১০০ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়ে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাংক শাখায় এ হিসাব খোলা যায়। এ হিসাবে কোনো ফি বা চার্জ আরোপ করা হয় না। এমনকি ন্যূনতম স্থিতি রাখার বাধ্যবাধকতাও নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

[related_post themes="flat" id="627"]

সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃবোরহান হাওলাদার(জসিম)নির্বাহী সম্পাদক:মোঃআসিফ হাওলাদার

মোবাইল:০১৯৯৫৭৩৮১০৩,০১৯১২৩৩৮৮৩৪.

বার্তা ও বাণিজ্যিক.কার্যালয় : ২৬২/ক.বাগীচা বাড়ী(৩য়া) ফকিরাপুল.মতিঝিলওসম্পাদককর্তৃকতুহিনপ্রিন্টিংপ্রেসফকিরাপুলমতিঝিল,ঢাকা১০০০।

ইমেইল:Somoyerkantha@gmail.com