,
সংবাদ শিরোনাম :

নূতন আতঙ্কের নাম বজ্রপাত

বজ্রপাত এখন বাংলাদেশের জন্য নূতন আতঙ্কের নাম। ইহা মানুষের পরিচিত সবচাইতে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক ঘটনাগুলির একটি। সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় সমান মাত্রার স্ফুলিঙ্গ আর ভয়াবহ গর্জনের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরিয়া বজ্রপাত মানুষের পিলে চমকাইয়া যাইতেছে। আকস্মিক মৃত্যু তো আছেই। বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনীতেও আমরা বজ্রঝড়ের অপরূপ বর্ণনা পাই। শিল্পীর চোখেও বজ্রপাত অপূর্ব চোখ ঝলসানো চিত্ররূপ লইয়া প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাস্তবে বজ্রপাত মূর্তিমান আতঙ্করূপেই দেখা দেয় সাধারণ্যে। গতকাল রবিবারও বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়াছে। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে গত মঙ্গলবার মাত্র ১৩ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৭৪৯টি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়। মৃত্যু হয় নয়জনের।
সর্বশেষ তথ্যউপাত্ত হইতে জানা যায়, বিবিধ প্রাকৃতিক কারণে বজ্রপাতের মাত্রা বৃদ্ধি পাইতেছে বাংলাদেশে। এই ব্যাপারে আবহাওয়াবিদরা মনে করেন, উষ্ণায়নের ফলে মেঘ তৈরির তীব্রতা বাড়িতেছে। পরিবেশ আগের তুলনায় উত্তপ্ত অবস্থা হইতে শীতল অবস্থানে আসিতে সময়ক্ষেপণ করিতেছে অধিক পরিমাণে। ফলে বাষ্পায়নটা ছড়াইয়া পড়িতেছে ক্রমশ। আর ইহার ফলেই মেঘ তৈরির তীব্রতায় বৃদ্ধি পাইতেছে বজ্রপাতের সংখ্যা। বর্তমান বিশ্বে বজ্রপাতে সবচাইতে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটিতেছে বাংলাদেশে। আগামীতে বৃদ্ধি পাইবে ইহার মাত্রা। এই তথ্য জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট সেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদন হইতে। সেইখানে বলা হইয়াছে যে, হিমালয়ের পাদদেশ হইতে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অতিমাত্রায় বজ্রপাতপ্রবণ দেশে পরিণত হইতেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হইয়াছে, বিশ্বের গড় তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাইলে বজ্রপাত অন্তত ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে প্রতি বত্সর ঝড়বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমে প্রতি বর্গকিলোমিটারে অন্তত ৫০ বার বজ্রপাত হয়।
দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ খোলা প্রান্তর ও বজ্র নিরোধক গৃহের অভাব। এই কারণে শহরাঞ্চলের চাইতে গ্রামাঞ্চলে বজ্রমৃত্যুর হার বেশি। শহরাঞ্চলে ঘরবাড়িগুলি অনেকটাই বজ্র নিরোধক। গ্রামাঞ্চলে বজ্রপ্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে বিশাল বৃক্ষ। বজ্রপাত যেহেতু উঁচু কোনো কিছুতে আঘাত করে, সেইজন্য উঁচু গাছ হিসাবে তালগাছকে বাছিয়া লওয়া যায়। ইতোপূর্বে জানা গিয়াছে, সারা দেশে ১০ লক্ষাধিক তালগাছ রোপণের পরিকল্পনা রহিয়াছে সরকারের। তবে বজ্রপাতের আঘাত পাওয়া গাছটি নষ্ট হইয়া যায়। সেই হিসাবে ব্রজপাতে মৃত্যু ঠেকাইতে বিপুল পরিমাণে ধাতব টাওয়ার নির্মাণ করা হইলে তাহা অধিকতর স্থায়ী ব্যবস্থা হইবে। জানা যায়, ভিয়েতনামে এইভাবে টাওয়ার নির্মাণ করিয়া কমানো সম্ভব হইয়াছে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার। বজ্রপাতের তীব্রতা বুঝিয়া ২০১৬ সালের মে মাসে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসাবে ঘোষণা করিয়াছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। বজ্রপাত হইতে নিরাপদ থাকিতে কতগুলি সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার করা হইলেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হইল বজ্রপাত হইতে মৃত্যু ঘটনার হ্রাস করা। সেই দিকটিতেই গুরুত্ব দিতে হইবে সর্বাধিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

[related_post themes="flat" id="86"]

সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃবোরহান,হাওলাদার(জসিম)

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক,সনজিত সাহা,মোবাইল০১৯১২৩৩৮৮৩৪,ইমেইল:

Newsbhorerdhani@gmail.com

বার্তা ও বাণিজ্যিক.কার্যালয় : ২৬২/ক.বাগীচাবাড়ী(৩য়া)ফকিরাপুল.মতিঝিলওসম্পাদক/কর্তৃকতুহিনপ্রিন্টিংপ্রেস ফকিরাপুলমতিঝিল,ঢাকা১০০০।